Published : 08 Jul 2026, 11:53 PM
রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এই আকস্মিক ঘোষণার ফলে গত সাত বছরে ব্রিটেন ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধানের হাত ধরেছে। সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছেন না। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল নিজের পরিবারকে সবার আগে রাখা। এই কারণেই তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি রাজাকে জানিয়ে দিয়েছেন। বক্তব্য শেষ করে স্টারমার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাঁর স্ত্রী লেডি ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এখন তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে চান এবং তাঁর অসাধারণ স্ত্রীর জন্য সেরা স্বামী হয়ে উঠতে চান।
একইসঙ্গে তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য আরও ভালো পিতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। স্টারমারের এই ঘোষণার পর এখন সবার দৃষ্টি লেবার পার্টির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নিবদ্ধ। দলের পরবর্তী প্রধান নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে—তা কি অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হবে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট নেতাকে সরাসরি দলনেতা ঘোষণা করা হবে? স্টারমার অনুরোধ করেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য। আগামী ৯ জুলাই থেকে এই পদের জন্য মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত হয়ে যাবে। স্টারমার নিশ্চিত করেন যে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন পর্ব শেষ হয়ে যাবে এবং পরবর্তী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দিকে। মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বড় জয়ের পর লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম দাবিদার এবং দলের 'স্বাভাবিক উত্তরসূরি' হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অধরা। দলের অন্য কোনো অভিজ্ঞ নেতাও এই দৌড়ে শামিল হতে পারেন। যদি এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, তবে ব্রিটিশ সরকারে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষত জনমত সমীক্ষায় লেবার পার্টি যদি পিছিয়ে থাকে, তবে এই জটিলতা আরও বাড়বে। ক্ষমতার হস্তান্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে হবে নাকি সরাসরি কাউকে দলনেতা করা হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই পরিস্থিতি। বার্নহ্যামের পক্ষে দলের সমর্থন কতটা একাট্টা হয়, তার ওপরই ক্ষমতার পালাবদল নির্ভর করছে।।
বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা