Published : 25 Jun 2026, 12:36 PM
প্রিয় শশী আপু, জানিস আপু, যখন আমি নতুন কোনো সৃষ্টি লিখি বা জ্ঞানের জগতে ডুব দিই, তখন সবার আগে তোমার মুখটিই আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমার এই বই পড়ার নেশা আর লেখার সাহস তোমার কাছ থেকেই পেয়েছি। ছোটবেলায় লাইব্রেরি থেকে বই এনে আমার হাতে তুলে দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলোই ছিল আমার পথচলার প্রথম আলো। তোমার হাত ধরেই আমি প্রথম শব্দগুলোর জাদু শিখেছি। তুমিই আমার ভেতরে লেখালেখির যে উদ্দীপনা আর অদম্য সাহস জাগিয়েছো, যে কল্পনাকে খাতায় রূপ দিতে শিখিয়েছো—তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। বড় বোন হিসেবে তোমার শাসন হয়তো মাঝে মাঝে কঠোর, কিন্তু সেই কঠোরতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক গভীর মমতা।
তোমার কাছে আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই মনের সব কথা উজাড় করে দিতে পারি, কারণ আমি জানি তুমি আমাকে কখনো ভুল বুঝবে না, বরং সবসময় আমার পাশে থাকবে। তোমার মেজাজ মাঝে মাঝে চঞ্চল হলেও, সেই রাগ বা বিরক্তি মুহূর্তেই তোমার স্নিগ্ধ ভালোবাসায় ম্লান হয়ে যায়। যখন মা বকা দেন, তখন তুমিই আমার একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। আমি ভুল করলেও তুমি যেভাবে পরম স্নেহে ভুলগুলো শুধরে দাও, তা পৃথিবীর আর কেউ দিতে পারে না। তুমি আমার বড় বোন ঠিকই, কিন্তু তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন, আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু। যদি পৃথিবীতে 'সেরা বোন'-এর কোনো পুরস্কার থাকত, আমি চোখ বন্ধ করে তা তোমার হাতেই তুলে দিতাম।
তোমার উপস্থিতিতেই আমার জগৎটি বইয়ের পাতা আর কল্পনার রঙে ভরে উঠেছে। শুভ জন্মদিন, আমার প্রিয় ফুল! এই বিশেষ দিনে আমার একটাই প্রার্থনা, তোমার জীবন যেন সবসময় অফুরন্ত আনন্দ আর হাসিতে পরিপূর্ণ থাকে। তুমি যেন সারা জীবন এই মিষ্টি শাসন আর অফুরন্ত ভালোবাসায় আমাকে আগলে রাখো। অনেক অনেক ভালোবাসা তোমায়! ইতি, তোমার ছোট ভাই, খাইরুল বাসার তাহসিন।