Published : 24 Jun 2026, 12:15 PM
হিজরি বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণরূপে চন্দ্রের চক্রের ওপর নির্ভরশীল। আকাশে নতুন চাঁদের উদয় মানে একটি হিজরি মাসের সমাপ্তি এবং নতুন মাসের শুভ আগমন। ইসলাম ধর্মে নতুন চাঁদ দেখা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও কল্যাণ প্রার্থনা করার এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। মহানবী (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে তাঁর উম্মতকে নিয়ে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। যখনই নবীজি (সা.) নতুন চাঁদ দেখতেন, তখনই তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ, তুমি এই নতুন চাঁদকে আমাদের ওপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে স্থাপন করো। আর তুমি যা ভালোবাসো ও পছন্দ করো, তার তাওফিক (সফলতা) দান করো।
(হে চাঁদ!) আমাদের এবং তোমার রব হলো আল্লাহ। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫১) এই দোয়াটি পাঠ করা চাঁদ দেখার সময় মোস্তাহাব বা অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি আমল। এটি মানুষের হৃদয়কে প্রকৃতির নিদর্শনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। (ইমাম ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৪/৪৪৭, মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি) এই দোয়ার মাধ্যমে নবীজি একটি সুন্দর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ১. বরকত ও কল্যাণ: প্রার্থনার শুরুতে আল্লাহর কাছে এই মাসের আগমন যেন আমাদের জীবনে সমৃদ্ধি, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে আসে, তা রুজি-রোজগার, সময় বা স্বাস্থ্যে হতে পারে। ২. ইমানের দৃঢ়তা: মানুষের ঈমান সর্বদা স্থির থাকে না, তা ওঠানামা করে। নতুন মাসের শুরুতে মুমিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেন এই নতুন দিনগুলোতে তার ঈমানি শক্তি আরও মজবুত ও সুদৃঢ় হয়। ৩. তাওহিদের ঘোষণা: দোয়ার শেষ অংশটি অত্যন্ত চমৎকার—‘আমার ও তোমার প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ’।
এর মাধ্যমে মুমিন চাঁদকে দেখে বিশ্বজগতের স্রষ্টাকে স্মরণ করে। ইসলামে ধ্যান ও জীবনযাপনের কার্যকর ৫টি পদ্ধতি: ১. নিরাপত্তা ও শান্তি: পার্থিব জীবনে নানা বিপদ, রোগ-ব্যাধি ও দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর দেওয়া ‘সালামত’ বা নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ২. ইসলামের ওপর অবিচলতা: কেবল মুখে মুসলিম দাবি করাই যথেষ্ট নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের বিধান ও বিধি-নিষেধ মেনে চলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ৩. তাওহিদের ঘোষণা: এই ঘোষণা মানুষকে স্রষ্টার একত্ব স্মরণ করতে শেখায়। শেষ কথা হলো, চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৯) আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় আমরা হিজরি মাসের হিসাব বা নতুন চাঁদের খোঁজ রাখার প্রয়োজনীয়তা ভুলে যাই। মনে রাখতে হবে, হিজরি মাসের হিসাব রাখা এবং প্রতি মাসের শুরুতে নতুন চাঁদ অনুসন্ধান করা একটি সুন্নাহ ইবাদত।।
কোটি কোটি টাকার পেছনে ছুটল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ