Published : 22 Jun 2026, 11:44 PM
বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমালোচনা করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, সুবিধা বা সুযোগের আলোচনায় উভয় পক্ষ এখন একজোট। আজ শনিবার রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে দলের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। মঞ্জু বলেন, ‘সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। সংস্কার ও সুশাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি, পুরোনো পদ্ধতিতে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কেবল বাগাড়ম্বর ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার ফুলঝুরি ছড়ায়। আমরা এটাও লক্ষ্য করছি যে, উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের অফিস ও গাড়ি সুবিধার মতো বিষয়ে উভয় পক্ষ এখন একমত।’ এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাজনীতি ও রাষ্ট্র শাসনে আমূল পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যতীত সরকারের অন্য কারো মধ্যে পরিবর্তনের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলীয় নেতাদের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক ভাষা ও চরিত্র পুরোপুরি বিদ্যমান। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘পুশ ইন’-এর বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যৌথ প্রতিরোধের প্রশংসা করে মঞ্জু বলেন, ‘জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ঐক্যই আমাদের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ।’ তিনি জাতীয় সংসদে পুশ ইন-এর বিরুদ্ধে দল নির্বিশেষে সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানান। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সমলোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, মূল্যস্ফীতি এখন ১০-এর কাছাকাছি। তিন মাসে সরকার প্রায় অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ট্রেজারি বিল থেকে ঋণ নিয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনার পরিবর্তে সরকার ক্রমাগত ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে আরও বেশি ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের জন্য সাময়িক বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। মজিবুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছেন।
তিনি প্রটোকল কমানো, সময়ানুবর্তিতা এবং অযথা প্রশংসা এড়িয়ে চলার রীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। কিন্তু তাঁর মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য, দলান্ধ আমলা গোষ্ঠী এবং দলের নেতাদের মধ্যে তা অনুসরণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব মিনার এবং দলের যুব শাখা এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল। এবি পার্টির রংপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবদুর রউফের সভাপতিত্বে এবং রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় এই প্রতিনিধি সম্মেলনে দলের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং আগামী দিনে রংপুর বিভাগে দলের কার্যক্রম সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন এবি পার্টির দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, রংপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল আলম, নীলফামারী জেলার আহ্বায়ক মাওলানা লিয়াকত আলী, কুড়িগ্রাম জেলার আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, রংপুর জেলার সদস্যসচিব এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলার সদস্যসচিব মোমিন সরকার, লালমনিরহাট জেলার সদস্যসচিব আশরাফুল আলম প্রমুখ।।
জনসাধারণের সমর্থন না থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ