Published : 22 Jun 2026, 01:45 PM
চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে মারধোরের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, যদি ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ উপস্থিত না থাকত, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর চাঁদগাঁও বহদ্দারহাট এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাঈম হাসান বলেন, "আমি এখানে এসেছি মূলত ওই ভাইদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য। প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা আমার সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন। তাদের অনুপস্থিতিতে এই ঘটনাটি ভিন্নভাবে পরিণতি পেত।" নাঈমের অভিযোগ, কোনো প্রকার তল্লাশি ছাড়াই তাকে একটি সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করা হয়, যা তাকে চরম আতঙ্কিত করে তোলে। তিনি আরও জানান, সিএনজি থেকে নামার সময় তাকে জোর করে সিএনজিতে উঠতে বলা হয়। এরপরই কেউ এসে তার গলা চেপে ধরে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে তার ব্যাগ বা অন্যান্য সামগ্রী কোনোভাবে পরীক্ষা করা হয়নি, বরং সেগুলো পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, "তারা আমার ব্যাগ বা অন্যান্য জিনিসপত্র পরীক্ষা করেনি। সেগুলো সারারাত থানায় রাখা ছিল। পরে ডিসি স্যারের সামনেই আমি একে একে সব জিনিস বের করে দেখিয়েছি। গ্লাভস, ব্যাট, হেলমেট, কাপড়—সব। সিএনজিটিও পরীক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।" থানায় নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাঈম। তিনি বলেন, "আমি পরিচয় দেওয়ার পরেও ওসি আমাকে বলছিলেন, 'চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল'। এরপর তার মোবাইলে একটি ফোন আসে এবং তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। প্রথমে একরকম ছিল, পরে অন্যরকম।" এছাড়াও, অভিযানে অংশ নেওয়া এক এসআই তার সঙ্গে শারীরিক দুর্ব্যবহার করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এই ঘটনার মানসিক প্রভাব তুলে ধরে নাঈম বলেন, "আমি এখন কিছুটা একা থাকতে চাই। গত রাত থেকে আমি ঘুমাইনি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।" এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। নাঈম হাসান জোর দিয়ে বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষের সঙ্গে এমন অন্যায় না ঘটে। যদি আমি আজ এর বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, তবে ভবিষ্যতে কোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলেও হয়তো কেউ জানবে না।" নাঈম জানান, মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়ার পর তিনি প্রথমেই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করেন। নাঈম বলেন, "তামিম ভাইকে ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রিসিভ করেন এবং ওসির সঙ্গে কথা বলেন। পরে যখন আমার পরিচিতজনেরা থানায় আসেন, তখন সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে পুলিশের বক্তব্য এবং ঘটনার বিবরণ এক নয়।"।