Published : 08 Jun 2026, 12:02 PM
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের মূল দাবি হলো, এই বেড়াটি অবশ্যই 'শূন্যরেখা' বা জিরো লাইনের ওপর নির্মাণ করতে হবে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে তাদের গ্রামটি ভারতের বৃহত্তর অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এই প্রতিবাদটি গত রবিবার সংঘটিত হয়। মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলস জেলার লিংখং গ্রামের বাসিন্দারা এই দাবিতে সোচ্চার হন। এই গ্রামটি এমন কয়েকটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে পড়ে, যাদের বাড়িঘরগুলো বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, শূন্যরেখা থেকে কাঁটাতারের বেড়ার কমপক্ষে ১৫০ গজ দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। স্থানীয়রা মনে করেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় গ্রামবাসীরা বাঁশ দিয়ে একটি বেড়া তৈরি করে নিজেদের এলাকাকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করেছিল, কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থা বজায় নেই।
এই চলমান বেড়া নির্মাণ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে গ্রামবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পিনুরসলা অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। গ্রামপ্রধান রামু সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, 'আমরা সীমান্তে বেড়া স্থাপনের ঘোর বিরোধী নই, কিন্তু আমরা চাই বেড়াটি যেন ঠিক শূন্যরেখা বরাবর তৈরি হয়। এতে আমাদের গ্রামটি ভারতের অভ্যন্তরে এবং বেড়ার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে।' তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে বর্তমান নকশা অনুযায়ী বেড়া তৈরি হলে লিংখং গ্রামটি নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে চলে যাবে, যা তাদের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করবে। স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদিরও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া তৈরি হলে আমাদের গ্রামটি বাইরে চলে যাবে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আমরা চাই রাজ্য সরকার আমাদের কথা শুনুক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই বিষয়টি তুলে দিক।' সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার অংশ হিসেবেই এই বেড়া নির্মাণ কাজ চলছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। স্থানীয় সমস্যা এবং দুর্গমতার কারণে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই লিংখং গ্রামে একটি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, 'গ্রামে বিএসএফের উপস্থিতি রয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' ভারতের স্বরাষ্ট্র বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন এলাকায় শূন্যরেখা বরাবর একক সারি বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নতুন সরকার এখনো এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।।