Published : 08 Jun 2026, 09:01 AM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে তার পরিবারকে নির্যাতন করার ঘটনা সম্প্রতি প্রথম আলোর সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এর অর্থ হলো আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা থাকা সত্ত্বেও, বিচার প্রক্রিয়ার পথ এড়িয়ে প্রকাশ্য বাজারে নিজেদের বিচার করে নেওয়া—যা তথাকথিত ‘সালিসের’ নামে—সামাজিক অবিচারকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাদকের বিস্তার এবং সমাজের উপর এর ভয়াবহ প্রভাব প্রায়শই সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সম্পূর্ণ যৌক্তিক। কিন্তু এই সমস্যা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে জনগণের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিপজ্জনক। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে অমানবিক নির্যাতন করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
এটি দেশের সামগ্রিক আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। আমাদের প্রশ্ন হলো, থানায় মামলা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলো? এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এক ধরনের দ্বিমুখী সংকট তৈরি করেছে। একদিকে তাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং তাদের প্রতি জনগণের অনাস্থা সমাজে স্ব-বিচার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করছে, অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাসও রয়েছে। এছাড়াও, মাদক নির্মূলের নামে সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। আমরা জানি, মাদক ব্যবসার পেছনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অর্থনীতি কাজ করে, যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তি, সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এই নেটওয়ার্ক টিকে থাকা অসম্ভব। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাদক বাহক ধরা পড়লেও নিয়ন্ত্রক আড়ালে থেকে যায় এবং অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে বা মাদক উৎস খোলা রেখে শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে না ভেঙে মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
মনে রাখতে হবে, কোনো নাগরিককে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র অধিকার আদালতের হাতে। কোনো ক্ষুব্ধ জনতা বা কথিত স্থানীয় মাদক নির্মূল কমিটির হাতে তা বর্তায় না। সরকারের উচিত এই ‘সালিসের’ সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। নাগরিকদের জন্য একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একই সাথে একজন অপরাধীর আইনি অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য।।