Published : 03 Jun 2026, 03:11 AM
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলাদেশের এক হত্যা মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'কে খুন করিয়েছিল? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আমি সবটাই জানি।' এই দাবি তিনি মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক জনসভায় করেন। গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম জনসভা। এই বক্তৃতার কিছু অংশ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করে। ভারতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা অমিত শাহ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতায় 'হোম মিনিস্টার' (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) শব্দটি ব্যবহার করলেও অমিত শাহের নাম উল্লেখ করেননি। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর ভয় দেখানো হচ্ছে? এই সিআইডি (ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) আমার সময়েও ছিল, কিন্তু তখন এটি এভাবে কার্যকরভাবে অন্যায় কাজ করত না, বিশেষত এসটিএফও (বিশেষ কার্য দল) থাকত না।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল, যার ফলে বাংলাদেশে অনেক 'বিপ্লব' হয়েছিল এবং সেই খুনি মেঘালয় দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেছিল। মমতা বলেন, 'আমাদের এসটিএফ তাকে ধরেছিল।' এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, 'এত দিন আমি মুখ খুলিনি, কিন্তু আজ অত্যাচার শেষ সীমায় পৌঁছেছে।' তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমি দেশের প্রতি ভালোবাসি, আমি চাই না বাংলাদেশে পরিস্থিতি উত্তাল হোক।
' এই সময় মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা দাবি করেন, 'নামটা প্রকাশ করুন।' মমতা উত্তর দেন, 'না, বলব না দেশের স্বার্থে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বললেন? তিনি বলেছেন, আপনাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে এই বিষয়টি বাইরে না বলে নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে হবে, কারণ এটি দেশের জন্য করা হয়েছে।' সবশেষে মমতা বলেন, 'কে খুন করিয়েছিল? কার নাম বেরিয়ে ছিল? সরকার পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন, আমার হৃদয়ই হলো তথ্যভান্ডার, সত্যভান্ডার। আমি সম্পদের ভয়ে কর্মীদের জলে ভাসিয়ে দিয়ে দল ছেড়ে যাব না।' ।
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি 'গণবিরোধী' – জামায়াতের দাবি, বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি