Published : 26 May 2026, 10:24 AM
আসন্ন জাতীয় বাজেটে অফশোর ঋণের সুদের উপর আবারও ২০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, জুনে উপস্থাপিতব্য অর্থবিলে এই প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। অফশোর ঋণ হলো সেই প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাধারণত অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করে। ইতিপূর্বে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এই ধরনের ঋণের সুদের উপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ব্যাংকারদের আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর, ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের (এসআরও) মাধ্যমে এই ঋণকে করমুক্ত করা হয়। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করে ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’কে জানান, “বিদেশি ঋণের সুদের উপর কর আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন এবং প্রস্তাবটি অর্থবিলে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।” তার মতে, আগে কর ছাড় দেওয়ার প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে অফশোর ঋণের সুদের উপর কর থাকা উচিত। কারণ স্থানীয় উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদের উপর কর দিতে হয়, কিন্তু বিদেশি ঋণের সুদে কর না থাকলে বৈষম্য সৃষ্টি হয়। কর বিশেষজ্ঞ এবং এসএমএসি অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া টিবিএসকে বলেন, “ন্যায্যতার স্বার্থে অফশোর ঋণের সুদের উপর কর কর্তন করা প্রয়োজন। স্থানীয় ঋণের সুদে কর বিদ্যমান, তবে বিদেশি ঋণের সুদে না থাকলে তা বৈষম্য তৈরি করবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএএ) থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজ দেশে এই কর সমন্বয় করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, “বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ পূর্বে এই কর আরোপ করে প্রত্যাহার করেছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন।” অন্যদিকে, ব্যাংকার ও উদ্যোক্তারা মনে করেন, এই কর আরোপ করা হলে বিদেশি ঋণের খরচ বাড়বে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার টিবিএসকে বলেন, “বিদেশি ঋণের সুদের উপর কর আরোপ করা হলে ঋণদাতারা সুদের হার বৃদ্ধি করবে, যার ফলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে।” তিনি বলেন, “এই তহবিলের উপর কর আরোপ করা উচিত হবে না।” ডিবিএল গ্রুপের প্রায় ২০ কোটি ডলারের অফশোর ঋণ রয়েছে বলে তিনি জানান। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিদেশি ঋণের সুদের উপর কর আরোপ করা হলে ঋণদাতারা ঋণ দিতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং সুদের হার বাড়বে, যার ফলে বিদেশি তহবিল প্রাপ্তি কমে যেতে পারে।” খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এমন সময়ে অফশোর ঋণের খরচ বাড়তে পারে, যখন ব্যবসায়ীরা এমনিতেই উচ্চ ব্যয়ের চাপে রয়েছেন।।
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি 'গণবিরোধী' – জামায়াতের দাবি, বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি