Published : 13 May 2026, 11:06 PM
ইরান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, শান্তি আলোচনার পথে বাধা আসায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বুধবার চীন সফর শুরু করেছেন। এই সফরে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি ইরান সংকট নিরসনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আজ ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছালে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে লালগালিচা দিয়ে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দুটি শক্তিশালী দেশ, সামরিক সক্ষমতায় আমরা বিশ্বে শীর্ষস্থানে।’ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প কয়েকদিন ধরে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, চুক্তি না হলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপের সমুচিত জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের যেমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি চীনেরও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। ইরান থেকে চীন প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে চীনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিরসনে চীন আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। তেহরান সম্ভবত চাইবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে চীন ও রাশিয়ার মতো স্থায়ী সদস্যদের সমর্থন থাকুক।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেছেন। চীন রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের কৌশলগত মিত্র। যদিও ট্রাম্প সফরের আগে বলেছেন, ‘ইরান বিষয়ে আমাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আমরা নিজেরাই এই যুদ্ধে জিতব।’ তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পেছনের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তিনি সির সঙ্গে বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গটি উত্থাপন করবেন এবং তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করতে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিফর্ম প্রোগ্রামের পরিচালক ড্যান গ্রেজিয়ার আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্প অন্তত সি চিন পিংয়ের সমর্থন চাইবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’।
সবুজ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার