Published : 12 May 2026, 11:07 PM
খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়, পাশাপাশি আনসার সদস্যরা রাবার বুলেট ব্যবহার করেন। এই ঘটনায় রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় জর্জরিত হয়ে একসময় অভিযান বন্ধ করে কর্তৃপক্ষকে ফিরে আসতে হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনওর নিরাপত্তা প্রহরীরা – মো. সালাহ উদ্দিন (৩৮), নুর মোহাম্মদ (২৫), নুর মোহাম্মদ (৩৩) ও খোরশেদ আলম (৩৭)। এছাড়াও ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারী আবদুল ওহাব জুয়েল (৩০), গাড়িচালক কামাল উদ্দিন (৪০), উপজেলা পরিষদের কর্মচারী মো. হারুন (৪৫), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন (৪২), পৌরসভার কর্মচারী সিহাব উদ্দিন (২৬), এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নুর হোসেন (১৯), সুমন ত্রিপুরা (২২), আজাদ (২৫) ও আবুল হাসান (৩০) রয়েছেন।
আহত গ্রামবাসীরা জানান, তাঁরা রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসময় কিছু স্থানীয় ব্যক্তি অভিযানে বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়, যাতে তিনিসহ মোট ১১ জন আহত হন। কাজী শামীম আরও জানান, ঐ এলাকায় প্রায় ১০টি স্থানে পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল। রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী-পুরুষের সংঘবদ্ধ হামলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচটি ফাঁকা গুলি এবং আনসার সদস্যরা পাঁচটি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন।
তবে আহত গ্রামবাসীদের মধ্যে মো. দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেনের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহৃত খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভাঙচুর করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়। এলাকার কৃষক মো. ফারুকের অভিযোগ, অভিযানে তাঁর একটি সেচ পাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই অভিযোগ করেন কিবরিয়া ও বশর নামের আরও দুই কৃষক। তবে ইউএনও কাজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।।
ছয় দিনের আন্তর্জাতিক সফরের পর দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন প্রধানমন্ত্রী