Published : 09 May 2026, 07:08 AM
পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা করেছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলের কাছে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিআরডিও ও ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে গত বৃহস্পতিবার ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (টিএআরএ) সিস্টেমের প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এটি ভারতের প্রথম স্বনির্মিত ‘মডুলার রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট’, যা সাধারণ বোমাকে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রে রূপান্তরিত করতে পারে। প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখতে ‘অগ্নি-৬’-এর মতো না হলেও এটি নিশ্চিতভাবে আইসিবিএম শ্রেণির। যদিও ডিআরডিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ঘোষণা দেয়নি। এর আগে জানা গিয়েছিল, ভারত শীঘ্রই ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম পরীক্ষা করবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছেই ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে।
এছাড়া ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের কাছে রয়েছে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে সফল হলে বিশ্বের যেকোনো দেশ—এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে। সম্প্রতি এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত ‘অগ্নি-৬’ নিয়ে বলেছিলেন, ‘সরকারের অনুমতি পেলেই আমরা এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। আমাদের সকল কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন।’ ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়ার পথে ভারত গত বুধবার ক্ষমতাসীন বিজেপি দল সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ ‘অগ্নি-৬’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইঙ্গিত দেয়। সেখানে বলা হয়, ‘১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লা এবং এমআইআরভি (বহু লক্ষ্যবস্তু আঘাত হানার) প্রযুক্তিসহ ‘অগ্নি-৬’ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে স্থান করে দেবে।’ ক্ষেপণাস্ত্রের দুনিয়ায় শীর্ষস্থান বর্তমানে রাশিয়ার কাছে বিশ্বের দীর্ঘতম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘আরএস-২৮ সারমাট’ ও ‘আর-টোয়েন্টি নাইন আর-এম-ইউ টু পয়েন্ট ওয়ান লাইনার’ রয়েছে, যেগুলোর পাল্লা ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি।
চীনের ‘ডিএফ-৪১’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১২ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে ‘মিনিটম্যান-৩’ এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লাও ১০ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটারের কাছাকাছি। আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করা মানে জটিল রকেট প্রপালশন, গাইডেন্স সিস্টেম এবং বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করা। এটি মূলত পারমাণবিক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা অন্য কোনো দেশকে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।ভারত বিশেষ ‘গ্লাইড ওয়েপন’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা সাধারণ বা লক্ষ্যহীন যুদ্ধাস্ত্রকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করতে পারে। এর মাধ্যমে ভারত উন্নত অস্ত্র সক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোর একটি বিশেষ ক্লাবে প্রবেশ করলো।।