Published : 06 May 2026, 11:08 PM
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার ছয়জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) প্রাক্তন এমডি জাফর আলম, যিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন। এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সিইও পদের জন্য মোট ১২ জন আবেদন করেছেন। প্রথম দিনে জাফর আলমের পাশাপাশি সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি হুমায়ুন কবির, সীমান্ত ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বাংলাদেশ শাখার প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) জাকির হোসেনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আগামীকাল আরও ছয়জনের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হচ্ছে।
এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটি ব্যাংকের মালিকানা ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের হাতে। এক্সিম ব্যাংক ছিলেন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে। এই পরিস্থিতিতে, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার বিষয়টিকে অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক যেহেতু সরকারি মালিকানাধীন, তাই এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তদারকি করছে। তারাই প্রার্থীদের ডেকেছেন। অনেকে মনে করছেন, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সিইও নিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাস এবং সংশ্লিষ্ট খাতের আরও দুজন বিশেষজ্ঞ। অন্যদিকে, সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেককেও সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তাঁর সময়ে ব্যাংকটিতে নানা অনিয়ম হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলেও, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এখনো আলোচনার বিষয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগে প্রার্থীদের সম্পর্কে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছিল। কয়েকজন প্রার্থীর বিষয়ে শেষ মুহূর্তে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়নি। তাঁরা এখন চেষ্টা করছেন, যাতে বিতর্কিত ব্যক্তিরা সিইও পদে নির্বাচিত না হন। এর আগে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি যোগদান করেননি। একই সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াও পদত্যাগ করেন। ফলে, ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়াটি শুরুতেই হোঁচট খায়।।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী