Published : 12 Mar 2026, 11:06 AM
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বাবনা পয়েন্টে এক যুবকের সাথে স্থানীয়দের হাতাহাতি ও পুলিশের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সাথে কথা কাটাকাটি করছেন। হঠাৎ, এক ব্যক্তি, যার শরীর প্রায় অনাবৃত ছিল, তিনি একজন পুলিশ সদস্যের কানের ওপর সজোরে ঘুষি মারেন। ঘটনাটি গত সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি পিকআপ ভ্যানের চালককে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। রাত দুইটার দিকে চালকটি নগরের সুবিদবাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি তল্লাশিতে বাধা পায়। চালক প্রথমে থামতে রাজি না হয়ে দ্রুত গতিতে রিকাবিবাজারের দিকে চলে যান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুবিদবাজারের তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত সার্জেন্ট ওয়ারলেসের মাধ্যমে জানতে পারেন যে পিকআপচালক তাদের নির্দেশনা অমান্য করেছেন।
তিনি সন্দেহ করেন যে চালক ছিনতাইকারী হতে পারে। এরপর সার্জেন্ট পিকআপটির পিছু নেন এবং রাস্তায় টহলরত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরও চালককে থামানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু চালক থামেননি। অবশেষে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে পিকআপটি থামানো হয়। সার্জেন্ট সেখানে উপস্থিত হয়ে জনসাধারণের সামনে চালককে ছিনতাইকারী সন্দেহে চিহ্নিত করেন। স্থানীয়দের তাণ্ডবে চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, যুবকটি ছিনতাইকারী নয়, বরং একটি পিকআপ ভ্যানের চালক। স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতারা পুলিশের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হন। এরই মধ্যে যুবকটি দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একজন পুলিশ সদস্যের কানে ঘুষি দেয়।
এরপর তার বমি শুরু হয়। রাত তিনটার দিকে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মো. জুয়েল মিয়া (৩০) নামে পরিচিত এই পিকআপচালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকায়। সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াদুল কবির জানান, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি। এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যুবকটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’।
জল সংকটের মুখে সিলেট সিটি: আশ্বাস নয়, এখনই জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়ন চাই