Published : 28 Jun 2026, 04:29 PM
একটি উন্নত ও পরিকল্পিত নগরীর মূল ভিত্তি হলো নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত ও সুরক্ষিত পানীয় জলের অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সিলেট বর্তমানে এক ভয়াবহ জল সংকটের সম্মুখীন। বিভাগীয় শহরের অর্ধেকের বেশি নাগরিক যখন নিয়মিত বিশুদ্ধ জলের নাগাল পাচ্ছেন না, তখন নগর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা এবং দায়িত্ব পালনে প্রশ্ন ওঠা অনিবার্য। এই জলসংকটের নির্মম বাস্তবতা কেবল দৈনন্দিন জীবনকেই বিপর্যস্ত করছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এর আওতা ৪২টি ওয়ার্ডে বিস্তৃত এবং জনসংখ্যা প্রায় দশ লক্ষ। অথচ, ২০২১ সালে যুক্ত হওয়া নতুন পনেরোটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আজও সিটি কর্পোরেশনের জলের সংযোগ থেকে বঞ্চিত।
কর পরিশোধ করেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বাসিন্দারা ব্যক্তিগতভাবে ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করছে, যা পরিবেশ ও জলের স্তরকে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যেখানে পুরোনো ওয়ার্ডগুলিতেও লোডশেডিংয়ের অজুহাতে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ হয় না, সেখানে অবৈধ সংযোগের কারণে জলের অপচয় আরও বেড়ে চলেছে। এই তীব্র সংকটকালে, সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার 'নগরে এখন জলের সংকট নেই'—এমন উদাসীন মন্তব্য নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তবে আশার আলো হলো, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শহরতলীর চেঙ্গেরখাল নদে একটি নতুন জল শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নির্মাণ এবং কুশিয়ারা নদীকে উৎস করে আরও একটি শোধনাগারের পরিকল্পনা করেছেন। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো প্রায়শই আটকে থাকে।
অতএব, নতুন শোধনাগার নির্মাণের প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং চেঙ্গেরখাল নদের প্রকল্পের কাজ যেন ফাইলবন্দী না থেকে দ্রুত মাঠে দৃশ্যমান হয়। নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ডে অবিলম্বে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু করতে হবে। নগরের অভ্যন্তরে অবৈধ জলের সংযোগগুলো কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। সিলেটকে সত্যিকারের বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে, কালক্ষেপণ না করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সুপেয় জলের ন্যায্য ও সমান বণ্টন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।।
পর্তুগালে NCP নেতার উপর ডিম ও হামলা: ভাইরাল ভিডিওতে চাঞ্চল্য