Published : 13 Apr 2026, 09:06 PM
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর ধাক্কায় বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে খরচ বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকার বিদ্যুতের দাম পুনর্বিবেচনা করার কথা ভাবছে। এই লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পাইকারি ও খুচরা উভয় স্তরে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বাণিজ্য মন্ত্রী সদস্য থাকবেন। এছাড়াও অর্থ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবগণ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
৯ই এপ্রিল এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় এই কমিটি বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার সমন্বয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম মনে করেন, বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি সমন্বয় করার অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উচিত নয়। আগে এই ঘাটতির কারণ খুঁজে বের করে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো প্রয়োজন। ক্যাব-এর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হওয়া উচিত এবং ভোক্তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় এবং ছয়টি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে তা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়।
বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। উৎপাদন খরচ এবং পাইকারি মূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় সরকার নিয়মিতভাবে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। আইন অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হলে পিডিবি এবং বিতরণ সংস্থাগুলোকে বিইআরসির কাছে আবেদন করতে হবে। বিইআরসি এরপর প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণশুনানি করতে পারে। ।
মার্কিন-ইরানি সংঘাতের নতুন মোড়: শান্তি চুক্তি কি আর টিকে থাকবে?