Published : 11 Mar 2026, 05:07 PM
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে সরকারি ব্যয় সংকোচনের এক নতুন নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পরিষদ সচিবালয় আজ বুধবার এই পদক্ষেপের কথা জানায়। স্পিকার আয়াজ সাদিকের নির্দেশে গৃহীত এই কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির অধীনে সরকারি যানবাহনের ৭০ শতাংশ চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া, সংসদ সদস্যদের (এমএনএ) বেতন ও ভাতা আগামী দুই মাসের জন্য ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সকল প্রকার বিদেশ ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ২০ গ্রেড বা তার বেশি এবং মাসিক ৩ লাখ রুপির বেশি বেতন পাওয়া কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। সচিবালয়ের অপ্রয়োজনীয় সকল প্রকার কেনাকাটা বন্ধ করা হয়েছে, তবে অত্যাবশ্যকীয় দৈনন্দিন খরচগুলো অনুমোদিত। জাতীয় পরিষদ ও স্থায়ী কমিটির সভাগুলো সূর্যাস্তের আগেই শেষ করার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে। সচিবালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মী এখন ভার্চুয়ালি কাজ করবেন এবং তাঁদের বাড়তি কোনো ভাতা দেওয়া হবে না।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলো অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে এবং সপ্তাহে মাত্র চার দিন অফিস খোলা থাকবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য জাতীয় পরিষদ সচিবালয়ের অকেজো বা অপ্রয়োজনীয় আলো ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি ক্যাফেটেরিয়ার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও ৭০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুরোনো খরচগুলো কমাতে পুরো সচিবালয় এখন ‘পেপারলেস’ বা কাগজবিহীন পদ্ধতি অনুসরণ করবে। কর্মকর্তাদের মতে, জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চার দিনের কর্মসপ্তাহ এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার নীতি ঘোষণা করেছিলেন। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা আগামী দুই মাস কোনো বেতন নেবেন না। পাশাপাশি, সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হবে।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, ‘বেতন ছাড়াও, সকল সরকারি দপ্তরের নিয়মিত খরচ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে।’ ২০ গ্রেড ও তার ওপরের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের বেতন ৩ লাখ রুপির বেশি, তাদের দুই দিনের বেতন কেটে নেওয়া হবে। এই অর্থ সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। গত শুক্রবার সরকার ডিজেল ও পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা (বা ২০ শতাংশ) বৃদ্ধি করেছে। যুদ্ধের কারণে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানির দাম আরও কয়েক দফায় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় পেট্রলের দাম অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। সরকার মূলত মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নিচ্ছে, যাতে সেই অর্থ দিয়ে গণপরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের দামে ভর্তুকি দেওয়া যায়।।
মার্কিন-ইরানি সংঘাতের নতুন মোড়: শান্তি চুক্তি কি আর টিকে থাকবে?