Published : 22 Jun 2026, 10:45 PM
শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাশপুরে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের এক নির্জন কলাবাগানে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনা বারবার ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ৩১ মে জানখারকান্দি এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশে বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরিত হয়, যার বিষয়ে পুলিশ এখনও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। আজ যে স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে, তার ঠিক পাশেই গত ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরির সময় তিন ব্যক্তির জীবনহানি ঘটে। জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের সাত্তার ব্যাপারীর বাড়ির পাশের একটি কলাবাগানে আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটে।
বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করে। এই বিস্ফোরণের ফলে কলাবাগানের এক অংশে মাটি ধসে গর্ত সৃষ্টি হয় এবং গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রামবাসীরা দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণের বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে। স্থানীয়দের মতে, বিলাশপুর এলাকাটি পদ্মা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটি নড়িয়া ও সদর উপজেলার মধ্যে একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের অংশ। এই দুই পক্ষের মধ্যে ৪০ বছর ধরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এই বিরোধের জের ধরে বিভিন্ন সময়ে এখানে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন পক্ষের লোক ককটেল তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে।
গত ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরির সময় তিনজনের মৃত্যু হওয়ার পর পুলিশ ও যৌথ বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানা এবং সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এছাড়াও গত ২৯ মে জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে ককটেল খুঁজে পাওয়া যায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুর হাতে। সেই ককটেল হাতে নেওয়ার পর তা বিস্ফোরিত হয় এবং শিশুটির ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত ছয় মাসে জাজিরার অন্তত পনেরোটি স্থানে সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বিলাশপুরের এক জনমানবহীন স্থানে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও একই এলাকায় একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এই ঘটনাগুলোর পেছনের কারণ, বিস্ফোরিত ককটেল কোথা থেকে এলো এবং কারা এগুলো মজুত করেছে—এই বিষয়গুলো তদন্ত করে নিশ্চিত করা হবে।।
তামিলনাড়ুর আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ২০ জনের প্রাণহানি