Published : 14 Apr 2026, 03:06 AM
আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে, ২০০০ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলা নববর্ষের উৎসবে রমনা বটমূলে ঘটেছিল এক মর্মান্তিক বোমা হামলা। সেই ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছিল ১০ জনের, আর বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এই হামলার প্রেক্ষিতে রমনা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয় – একটি হত্যা সংক্রান্ত, অন্যটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী। প্রথম মামলাটির রায় ঘোষিত হলেও, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি যেন আজও বিচার প্রক্রিয়ার গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। এরপর, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এটি স্থানান্তরিত হয় মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-তে। বর্তমানে, মামলাটি আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। তবে, গত ৩১শে মার্চ ধার্য তারিখে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায়, আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৯ই জুলাই নির্ধারণ করেছে।
মামলার কৌঁসুলি মাহফুজ হাসান জানান, রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে তৎপর। তবে, কারাগারে বন্দি আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায়, তাঁদের বিভিন্ন জেলায় আটক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। এই কারণে শুনানি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হত্যা মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ৪৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটি প্রায় শেষের দিকে। খুব শীঘ্রই বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়ে মামলাটি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী বৈশাখের আগেই একটি ফল পাওয়া যাবে।
২০০১ সালের ১৪ই এপ্রিলের সেই বোমা হামলায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। রমনা থানায় দায়ের করা মামলায়, পুলিশ ২০০৮ সালের ২৯শে নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে একটি ছিল হত্যা মামলা, অন্যটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত। বোমা হামলার হত্যা মামলার রায় ১৩ বছর পর, ২০১৪ সালের ২৩শে জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন ঘোষণা করেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।।
জামিন মিললেও মুক্তি নেই: অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত কেন কারাগারে বন্দী?