Published : 26 Jul 2026, 07:13 PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদি পার্টি ও রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম নামে দুটি সংগঠন পৃথকভাবে এই অভিযোগগুলো পেশ করেছে। আজাদি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ৫ আগস্টের আগে বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটেছে, এবং এই অপরাধসমূহের সময় সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি নীরব সম্মতি প্রদান করেছিলেন। সংগঠনের প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং অন্যান্য নৃশংস ঘটনার সময় এই দুই ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির দল ফ্যাসিবাদী সরকারকে সমর্থন জুগিয়েছিল এবং সকল প্রকার নিরাপত্তা প্রদান করেছিল, কিন্তু তারা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেননি বরং ক্ষমতার অংশ হয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন।
এই দুই সাবেক রাষ্ট্রপতির দায় এড়ানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম শুধু সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'একান্ত সহযোগী' হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাঁকে গুম করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন ও গুমের নির্দেশদাতা হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলিতে সাহাবুদ্দিনের কোনো আইনি দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।।