Published : 04 Jun 2026, 11:11 PM
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী (৩৪) এবং তাঁর দুই কন্যা আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) নিথর দেহ নিয়ে ন্যায়বিচার ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মরদেহ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ তাঁরা লাশ নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং কালীবাড়ি এলাকার মৃত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
গত বুধবার বিকেলে থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি ঘর থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইতি রানী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে ছিলেন একজন অস্থায়ী কর্মচারী (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)। তিনি বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হলেও, নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে যে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যার কোনো কারণ ছিল না। অন্যদিকে, পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে আখ্যা দেওয়ায় পরিবারগুলো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি সুশান্ত কুমার ব্যাপারীর সভাপতিত্বে বিকেল চারটায় একই দাবিতে শহরের প্রধান সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা দাবি জানান, মা ও দুই শিশুর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। তাঁরা অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্তে বিলম্ব করে মৃত্যুর ঘটনাকে অন্য দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মানববন্ধনে পূজা উদ্যাপন পরিষদ বরগুনা জেলা শাখা সহসভাপতি মানিক সিকদার, কালীবাড়ি মন্দির কমিটির উপদেষ্টা মিলন দাস, সদস্য বাবুল দাস, বরগুনা আখড়াবাড়ি মন্দির কমিটির সদস্য খোকন কর্মকার এবং জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুজ্জামান (টিপন) উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন বরগুনায় নারী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা, পরিবারের অভিযোগ হত্যা৪ ঘণ্টা আগে।