Published : 08 May 2026, 09:08 PM
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, হাওর শুধু শস্যক্ষেত্র নয়, এটি দেশের মিঠা পানির মাছ ও বন্যপ্রাণীর এক অমূল্য আশ্রয়স্থল। তাই এর পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতা—দুটোই সমানভাবে রক্ষা করা জরুরি। সিলেট সার্কিট হাউসে শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এই কথা বলেন। এর আগে, সিলেট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে হাওর অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে একটি সভায় তিনি অংশ নেন। হাওরের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, হাওর ও জলাশয় উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় মিলে দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় কৃষি, পানি সম্পদ, মৎস্য এবং পরিবেশ—এই চারটি মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করবে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে খাল ও নদী খনন করে পুনরুদ্ধার, জলমগ্ন রাস্তাগুলোর উন্নয়ন, সবুজ বেষ্টনী তৈরি এবং মিঠা পানির মাছ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো রামসার সাইটের জীববৈচিত্র্য বর্তমানে ঝুঁকির মুখে।
অপরিকল্পিত ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে এবং মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার আগামী পাঁচ বছরের জন্য হাওর অঞ্চলের একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করছে, যেখানে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার পর সরকার তিন মাসের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, সরকার দ্রুততার সাথে ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। অতীতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, নদী ও খাল দখল, পলি জমা এবং দুর্বল জলপ্রবাহ ব্যবস্থার কারণে হাওর অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এমন কৃষি পরিকল্পনার অভাবকেও তিনি একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, আকস্মিক বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হাওর অঞ্চলের জন্য জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত, সময়োপযোগী ফসল কাটার ব্যবস্থা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কোর প্রয়োজন। এই স্কোর পূরণ হলেই কার্ড দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ত্রুটি কমানোর জন্য সরকার কাজ করছে।।