Published : 04 May 2026, 09:07 AM
পটুয়াখালীর গলাচিপার আগুনমুখা নদীর তীরে ভাসমান নৌকায় বসবাস করা জেলেদের কঠিন জীবনসংগ্রাম আমাদের সমাজের এক চরম অবহেলিত অংশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া স্পিডবোট ঘাটে দুই শতাধিক ছিন্নমূল পরিবার যুগ যুগ ধরে নৌকাকেই নিজেদের ঘরবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে। জীবন ও প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও তাঁরা দেশের মৎস্য খাত ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরবে অবদান রাখছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, রাষ্ট্র তাঁদের ন্যূনতম স্বীকৃতিটুকুও দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ভাসমান পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল নদীর ঢেউয়ের মাঝেও শাবানা, আলেয়া, রেহেনা কিংবা শেফালির মতো নারীরা জীবনধারণের হাল ধরে রেখেছেন। অসুস্থ স্বামী অথবা পরিবারের অভাবের তাড়নায় তাঁরা কোলের শিশুটিকে নৌকার একপাশে বসিয়ে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভাবের কারণে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা স্কুল ছেড়ে পরিবারের সাথে জাল ফেলতে যাচ্ছে উত্তাল নদীতে। ছোট্ট রুমান কিংবা জাহাঙ্গীরের মুখে যখন শোনা যায়, ‘ঘরে খাবার না থাকলে স্কুলে যাবো কী করে? স্কুলে গেলে তো কেউ খাওয়াবে না’—তখন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে শতভাগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক জীবনসংগ্রামের চেয়েও হতাশাজনক হলো প্রশাসনিক উদাসীনতা। দীর্ঘকাল ধরে নদীতে মাছ ধরলেও এদের নামের পাশে সরকারিভাবে ‘জেলে’ পরিচয়টি আজও যুক্ত হয়নি। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য প্রয়োজন বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ও জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র। যাদের জীবন সর্বদা নদীর জলে কাটে, ডাঙায় যাদের এক ইঞ্চি মাটিও নেই, তাদের কাছে বাড়ির হোল্ডিং নম্বর চাওয়াটা নিতান্তই অযৌক্তিক।
এটি একটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, যার বেড়াজালে আটকে দরিদ্র এই মানুষগুলো ভিজিএফ চাল থেকে শুরু করে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধুমাত্র কাগজের নিয়মের দোহাই দিয়ে প্রকৃত জেলেদের অধিকার কেড়ে নেওয়া অমানবিক। মৎস্য বিভাগ ‘বিশেষ বিবেচনায়’ তাঁদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বললেও, এর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। শুধু জেলের স্বীকৃতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এই ভাসমান পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং কোমলমতি শিশুদের শিশুশ্রম থেকে মুক্তি দিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। এই কাঠামোগত অবহেলার দ্রুত সমাধান হোক।।
ম্যানহাটানে উল্লাসের আগুনে সহিংসতা: বিশ্বকাপের বাসে আগুন, কিশোরের গুলি