Published : 26 May 2026, 01:28 AM
রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। তবে, এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম সোমবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে এই তথ্য জানান। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতায় বস্তির ঘরগুলো দ্রুত ধসে পড়তে শুরু করে। বস্তিতে থাকা প্লাস্টিক ও কাগজের মতো দাহ্য পদার্থ এবং বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি আরও জানান, বস্তির আশেপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নেভানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। চারদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ঘরছাড়া মানুষজন ইসিবি চত্বর থেকে কালশীমুখী রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদের সাধ্যমতো জিনিসপত্র নিয়ে রাস্তায় বসে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার বিকেলে বস্তির এক দোকানির সঙ্গে এক যুবকের ঝগড়া হয়।
এক পর্যায়ে ওই যুবক বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর, প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বস্তিতে আগুন লাগে। স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যুবককে আটক করা হয়েছে। মারধরের কারণে তিনি কিছুটা অসুস্থ, তার প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নাশকতা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেছেন। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বস্তিতে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ঘর ও দোকান ছিল। আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার মানুষ এখানে বাস করত। আগুনের লেলিহান শিখায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বেশিরভাগ দোকানেই ভাঙারির মাল ছিল। তেমনি এক ভাঙারির দোকানি লাল মিয়া রাস্তার পাশে বসে কাঁদছিলেন।
তার চারপাশে কয়েকজন লোক তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল। কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ। দোকানে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাল ছিল। কাল মাল বিক্রির কথা ছিল, তার আগেই আগুনে সব পুড়ে গেছে। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।’ রাস্তার ওপর বসে আহাজারি করছিলেন বস্তির বাসিন্দা আমির উদ্দিন। তিনিও ভাঙারির ব্যবসা করেন। বস্তিতে দুটি ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি বলেন, ‘ঘরের মাল কিছুই বের করতে পারিনি। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে কোনোমতে বের হয়ে এসেছি। আমার ঘরে ব্যবসার ৩৭ হাজার নগদ টাকা ছিল। ঈদের দিন বিকেলে মহাজনকে এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু টাকা সব পুড়ে গেছে।’।
ম্যানহাটানে উল্লাসের আগুনে সহিংসতা: বিশ্বকাপের বাসে আগুন, কিশোরের গুলি