Published : 09 Jul 2026, 03:39 AM
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতেরা। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তির বিষয়ে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ মন্তব্য করেন যে, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, স্থায়ী শত্রুতার অবসান, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সকল লেবাননির শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির পথে এই রূপরেখা চুক্তি এক নতুন দিগন্তের সূচনা।
’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর কিছুদিন পরই হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়, যা লেবানন-ইসরায়েল সংঘাতকে নতুন মাত্রা দেয়। এর ফলস্বরূপ ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে এবং কিছু অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরও বলেন, ‘একটি সত্যিকারের শান্তি তখনই সম্ভব যখন উভয় দেশ নিরাপদে বসবাস করবে এবং ইসরায়েল ও লেবানন একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান ও সুরক্ষা দেবে।’ এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অতীতে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঠ পর্যায়ে তা কার্যকর হয়নি। এই ঘটনাগুলো বর্তমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।।