Published : 17 Aug 2026, 09:16 AM
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী অন্তত সাতটি অঞ্চলে প্রায় এক মাস ধরে তিন হাজার পরিবারের পানিবন্দী থাকার পরিস্থিতি এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্ষা মানেই তো বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন বৃষ্টির জল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেমে না গিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে মানুষকে জলাবদ্ধতার মধ্যে আটকে রাখে, তখন এটিকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে উপেক্ষা করা যায় না। এই সমস্যাটি মূলত দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পানিনিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবের ফল। কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোল, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া ও লাবসা ইউনিয়নের শৈলকের বিল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এখন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। রাস্তাঘাট, বাড়ির উঠোন, ফসলের জমি এবং এমনকি বসতঘরেও জল ঢুকেছে। কিছু জায়গায় মানুষকে প্লাস্টিকের ভেলায় ভেসে চলতে হচ্ছে। প্রায় পনেরো হাজার মানুষ এভাবে পানিবন্দী থাকলে তাদের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকা—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিংড়িঘের অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ, খাল ও বিলের জল চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া, কালভার্ট ও স্লুইসগেটের ত্রুটি এবং নর্দমা ভরাট হওয়ার কারণে জল আটকে থাকছে। কৈখালী ও শৈলকের বিল একসময় গুরুত্বপূর্ণ জল নিষ্কাশন মাধ্যম ছিল। সেখানে একের পর এক মাছের ঘের গড়ে ওঠার ফলে সেই স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত লাভের জন্য এভাবে বাঁধ বা ঘের নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুক্তভোগীদের আন্দোলনের মুখে কিছু ঘেরের অংশ কেটে সাময়িকভাবে জল চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও, এটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বর্ষা এলে বারবার এই ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, যা প্রমাণ করে মূল সমস্যাগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা নিরসনে এখন প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। খাল, বিল এবং প্রাকৃতিক জল নিষ্কাশন পথগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে।
নদী-খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট ও স্লুইসগেট সংস্কার করা অপরিহার্য। একই সাথে পৌর ও গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক। নতুন বাড়ি বা রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রেও জল চলাচলের পথ বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে ১৮ আগস্ট সাতক্ষীরা সফর করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। আমরা আশা করি, এই সফর কেবল পরিস্থিতি যাচাই বা নতুন সুপারিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণকে একত্রিত হয়ে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। সাময়িকভাবে জল সরালেই সমস্যার সমাধান হবে না; জলাবদ্ধতার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন।।
গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ খারিজের দাবিতে শ্যামনগরে তীব্র জনবিক্ষোভ ও সমাবেশ