Published : 15 Jul 2026, 05:14 AM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারীরা ছিলেন আন্দোলনের একেবারে সামনের সারিতে। কিন্তু এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের পর তাদের অনেকেই যেন পথ হারিয়েছেন, তাদের অবদান প্রায় বিস্মৃত। পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার চর্চায় যে প্রবণতা বাংলাদেশে বিদ্যমান, তা কেন সৃষ্টি হলো এবং কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়—এই প্রশ্নগুলো এখন জরুরি। এই প্রসঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারীরা নিজেদের হতাশা ও অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন। এই প্রেক্ষাপটে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তি এই ভাবনাকে সামনে এনে একটি সমাবেশ আয়োজন করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে, ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপমানজনক মন্তব্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলের পাশাপাশি ছাত্রীদের প্রতিবাদ ছিল তীব্র। এর পরের দিন ছাত্রলীগ কর্তৃক ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলো আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়। এই দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, নারীশক্তি ১৪ জুলাইয়ের দুই বছর পূর্তিতে এই সমাবেশটি আয়োজন করে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা অগ্রভাগে থাকলেও বর্তমানে তাদের অবস্থান কোথায়? তিনি মনে করেন, এই প্রশ্নটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এর উত্তর খোঁজা আমাদের দায়িত্ব। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ থাকা সত্ত্বেও গত দুই বছরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তা প্রতিফলিত হয়নি।
পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আরও হতাশা প্রকাশ করেন যে জুলাইয়ের পরেও রাষ্ট্রকাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া বক্তব্য রাখেন। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা ঝুমা এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি এই সমাবেশের সঞ্চালনা করেন।।