Published : 28 Jul 2026, 09:32 PM
শহরের প্রাণকেন্দ্র কাচঘেরা ভবনে যখন প্রবেশ করা হয়, তখন চোখে পড়ে লাল রঙের ঝলকানি—ইয়ামাহার উজ্জ্বল লোগো। এই স্থানটি কেবল একটি বিক্রয়কেন্দ্র নয়, বরং রাইডারদের জন্য তৈরি এক সম্পূর্ণ জীবনধারা কেন্দ্র। মাঝখানে স্থাপিত উঁচু গোলাকার ডিসপ্লে জোনে রাখা রয়েছে স্পোর্টস বাইকের আকর্ষণীয় রূপ, যার চারপাশে সাজানো হয়েছে অসংখ্য মোটরসাইকেল। দেয়ালের একপাশে ইয়ামাহার সাত দশকেরও বেশি সময়ের বিশ্বব্যাপী যাত্রাপথের টাইমলাইন বিস্তৃত। অন্যদিকে, জেনুইন পোশাক, হেলমেট এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সামগ্রীর জন্য রয়েছে নিজস্ব আলাদা বিভাগ। এই আধুনিক পরিষেবার কেন্দ্রে রয়েছে কাচঘেরা সার্ভিস জোন। পুরো স্থানটি এক কথায় অসাধারণ—এটি মোটরসাইকেল বিক্রির স্থান নয়, বরং সকল বাইকপ্রেমীদের জন্য একটি পরিপূর্ণ লাইফস্টাইল গন্তব্য। চট্টগ্রামের সিডিএ অ্যাভিনিউর মুরাদপুরে ইয়ামাহার অনুমোদিত পরিবেশক ‘টুয়েন্টি এইট মোটরস’ এই স্বপ্নপূরণের পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শোরুমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজ বজায় ছিল। চট্টগ্রামের সিআরবি মোড় থেকে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এক জমকালো র্যালি।
এরপর বিশাল মোটরসাইকেলের বহর 'টাইগারপাস' হয়ে নতুন মুরাদপুরের এই শোরুমের সামনে এসে পৌঁছায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও ‘টুয়েন্টি এইট মোটরস’-এর স্বত্বাধিকারী তামিম ইকবাল খান এবং এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। তামিম ইকবাল বলেন, ‘ইয়ামাহা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। এর অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই শোরুমের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাইকপ্রেমীদের জন্য সত্যিই কিছু দারুণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।’ অন্যদিকে, সুব্রত রঞ্জন দাস জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি আমার দেখা পৃথিবীর বৃহত্তম ইয়ামাহা ডিলার শোরুম। এখানে এলে কেবল মোটরসাইকেলপ্রেমীরাই নয়, সকল ভ্রমণকারী এখানে স্বাগত পাবেন। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশজুড়ে যারা বাইক ট্যুরে আসেন, তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আমি নিশ্চিত, এটি দেশের সর্বাধিক মোটরসাইকেল বিক্রির কেন্দ্র হয়ে উঠবে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীরা শোরুমটি ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন মডেলের বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা সরাসরি বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাইকের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য জানতে চান এবং সার্ভিস জোন ঘুরে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
এই শোরুমটিতে ইয়ামাহার বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোটরসাইকেলের পাশাপাশি রাইডিং গিয়ার, হেলমেট, পোশাক, আসল যন্ত্রাংশ এবং ইয়ামালুব পণ্য এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়। এছাড়াও আধুনিক সার্ভিস বেগুলোতে একাধিক বাইকের সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় গ্রাহকদের সময়ও বাঁচে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুধু বাইক ব্যবহারকারীরাই নয়, চট্টগ্রাম ও আশেপাশের এলাকা থেকে আসা বহু ক্রেতা ও দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। সদরঘাট থানার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী জুনায়েদ আরমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে এত বড় পরিসরে মোটরসাইকেলের শোরুম আগে দেখিনি। এর সাজসজ্জা সত্যিই চমৎকার। আমার ছোট ভাইকে একটি বাইক কিনে দেওয়ার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। সে আগে ইয়ামাহার অন্য মডেল চালিয়েছে, এখন সে ‘ইয়ামাহার এফ জেড এস ভি ৪’ নিতে চায়। আমি আশা করছি এই শোরুম থেকেই সে তার ভাইকে সারপ্রাইজ দিতে পারবে।’ এই নতুন কেন্দ্রে ইয়ামাহার জনপ্রিয় সকল মডেলের মোটরসাইকেল, উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা এবং প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে সার্ভিসিং সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশাবাদী যে, এটি কেবল একটি বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং চট্টগ্রামের রাইডিং সংস্কৃতির এক নতুন ও আধুনিক ঠিকানা হয়ে উঠবে।।
পরিবেশবান্ধব বিপ্লব: রিভো বাংলাদেশের দুটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক দুই চাকার যান বাজারে