Published : 07 Apr 2026, 07:06 PM
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় একটি সমবায় সমিতি গ্রাহকদের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ করে তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দেয়, এবং এর কর্মকর্তারা নিখোঁজ হন। আমানতকারীরা এখন তাদের কষ্টের সঞ্চয় ফেরত পাওয়ার আশায় রাস্তায় নেমে এসেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৬ সালে আবদুল হালিম ও তার সহযোগীরা এই সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। তারা উপজেলার দীঘিরহাট এলাকায় একটি কার্যালয় খোলেন এবং বেশি লাভের আশায় স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও, সম্প্রতি তারা লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর গত ২৫ অক্টোবর হঠাৎ করে কার্যালয় তালাবদ্ধ করে সমিতির এমডি আবদুল হালিমসহ সবাই পালিয়ে যায়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাপাহার উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্টে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেন।
তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড, যেখানে তারা তাদের কষ্টের কথা ও প্রতারকদের বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। পরে একটি প্রতিনিধিদল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সমবায় কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আবদুল হামিদ জানান, তিনি বিশ্বাস করে ২০২০ সালে তার অবসর ভাতার ১৫ লাখ টাকা এই সমিতিতে জমা দিয়েছিলেন। প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা মুনাফা পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার পর থেকেই নানা অজুহাতে মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মফিজান বিবি বলেন, “আমি একজন বিধবা। দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালাই। তারা আমার ছেলেকে লোভ দেখিয়ে আট লাখ টাকা নেয়। এখন আমানতের টাকাও পাচ্ছি না।
এই টাকা দিয়ে আমার সংসার চলত। দুই বছর ধরে ঘুরছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই, আর আবদুল হালিমের শাস্তি চাই।” সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও রোমানা রিয়াজ জানিয়েছেন, স্মারকলিপি পাওয়া গেছে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
অপরাধীদের কঠোর শাস্তি: দ্রুত বিচারের দাবিতে কেরানীগঞ্জে জনমত