Published : 09 Jul 2026, 01:06 AM
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে একটি যুবককে মারধর করা হয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের মালিখালী বাজার এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। তবে এই ঘটনার পর পুলিশি তল্লাশিয় কোনো মাদক উদ্ধার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার শিকার মামুন মোল্লা (৩৮) উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া গ্রামের মানিক মোল্লার পুত্র। স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রমতে, সন্ধ্যার দিকে মামুন মোল্লা একটি প্রাইভেট কার নিয়ে এলাকায় আসেন। এই সময় এলাকার কিছু লোক তাঁকে মাদক ব্যবসায়ীর আখ্যা দিয়ে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে।
এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত মামুনকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে, তাঁর পরিবার দাবি করে যে অতীতের অভিযোগের জের ধরে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। মামুনের বাবা মানিক মোল্লা জানান, তাঁর ছেলে ফরিদপুর আদালতে মামলার হাজিরা শেষে ঢাকায় যাওয়ার জন্য আত্মীয়ের গাড়িতে বের হলে পথে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ছেলে অতীতে মাদকাসক্ত হলেও এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শত্রুতার কারণে মূল্যবান গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেন। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মামুনের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে এবং স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। যদিও তাঁর কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।