Published : 26 May 2026, 05:29 PM
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি ইটভাটায় কাজ করা আবদুল আজিজ (২৬) গত ২১ দিন ধরে পারিশ্রমিক পাননি। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। বাধ্য হয়ে সুনামগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন, তবে বাড়ি ফেরার পথেও পকেট কাটছে অতিরিক্ত ভাড়ার ধাক্কায়। আগে যেখানে ৮০০ টাকায় যাতায়াত যেত, এখন লাগছে ১ হাজার ১০০ টাকা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের অলংকার এলাকায় কথা হয় আবদুল আজিজের সঙ্গে। তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে আরও ১৫ জন সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন— তাঁদের মধ্যে ৫ জন নারী ও ৯টি শিশু। একই দলের দুজন কুষ্টিয়াগামী। ইটভাটার এই শ্রমিকেরা, শিশু ছাড়া সবাই, বৃষ্টির মধ্যে ব্যাগ-বস্তা নিয়ে অলংকার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাড়ি ফেরার ভাড়ার টাকাও তাঁদের কাছে ছিল না। গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে টিকিট কেটেছেন, বাড়ি গিয়ে কাজ করে সেই টাকা শোধ করবেন। সবার একই অবস্থা।মোহাম্মদ শাহেদ, ইটভাটার শ্রমিক। কুষ্টিয়াগামী মোহাম্মদ শাহেদ (২৮) ঈগল পরিবহনের টিকিট কিনেছেন ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথে ভাড়া ছিল প্রায় ১ হাজার টাকা। শাহেদ জানান, সাত মাস আগে তাঁরা ওই ইটভাটায় কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পেতেন।
কিন্তু মালিকপক্ষ গত ২১ দিন ধরে তাঁদের মজুরি পরিশোধ করেননি। উপায় না দেখে কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। সুনামগঞ্জের বাস ছাড়বে আজ সন্ধ্যা ছয়টায়, আর কুষ্টিয়ার বাস বিকেল পাঁচটায়।শাহেদ বলেন, ‘বাড়ি ফেরার ভাড়ার টাকাও ছিল না। গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে টিকিট কেটেছি। বাড়ি গিয়ে কাজ করে সেই টাকা শোধ করতে হবে। সবার একই দশা।’আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। আজ নগরের অলংকার ও এ কে খান এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মানুষের দীর্ঘ সারি— কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, কেউ আবার কোলে শিশু নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে করে পোষা পাখিও নিয়ে যাচ্ছেন। নগরের অলংকার এলাকায় নোয়াখালীগামী শাহি কাউন্টারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেখানে প্রতিটি টিকিট বিক্রি হচ্ছিল ৫৮০ টাকা করে। যাত্রী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, তিনি নোখালীর চৌমুহনী যাবেন। ঈদের আগে এই পথে ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ৫৮০ টাকা। একই পথে চলাচলকারী জোনাকি পরিবহনও ৫৮০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহি কাউন্টারের এক বাসচালক বলেন, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকে বাসগুলো খালি হয়ে ফিরে আসে। তাই বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।সুনামগঞ্জগামী আরেক যাত্রী মোহাম্মদ মাইনউদ্দিনকে পাওয়া যায় ইয়াছিন এক্সপ্রেস কাউন্টারের সামনে। তিনি টিকিট কিনেছেন ১ হাজার ৫০০ টাকায়। মাইনউদ্দিন বলেন, ‘আগে ৮০০ টাকা দিয়ে যেতাম। ঈদ এলেই দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়। এবারও তাই হচ্ছে।’ তবে ইয়াছিন এক্সপ্রেসের কর্মচারী মোহাম্মদ জিসান দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে তাঁরা অতিরিক্ত কিছু নিচ্ছেন না। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি চাকরিজীবী রিয়াজ মোহাম্মদ মহসিন কুমিল্লার টিকিট কেটেছেন ৫০০ টাকায়। দাউদকান্দি এক্সপ্রেসের টিকিট কাটেন তিনি। পরে তিনি জানান, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কুমিল্লা পর্যন্ত ৪০ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪৩৭ টাকা। সে হিসাবে ৬৩ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে।।