Published : 27 Jul 2026, 01:32 AM
সিরিয়া এখন ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির দিকে মনোনিবেশ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দামেস্ক তীব্রভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে এই চুক্তি শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। সম্প্রতি দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দামেস্কের কূটনৈতিক অবস্থান আরও নমনীয় হয়েছে। চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে এবং সেখানে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এই অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন সাবেক বিদ্রোহী নেতা। সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শারা কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে সিরিয়ার লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা নেই। তবে লেবাননের সংকট নিরসনে আলোচনা চলছে এবং সরকারকে কীভাবে সাহায্য করা যায়, তা নিয়ে দামেস্ক আলোচনা করছে। শারা সতর্ক করে বলেন, লেবাননে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি সিরিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সাথে তিনি লেবাননের সার্বভৌমত্বের পূর্ণ সমর্থন জানান এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও সংঘাত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। শারা দাবি করেন যে অস্ত্র রাখার একক নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতে থাকা উচিত এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তাদেরই নিতে হবে।
এছাড়াও, প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক ক্রমশ উন্নত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে প্রেসিডেন্ট শারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মূল আকাঙ্ক্ষা হলো এই যুদ্ধ যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে আঞ্চলিক সমাধানের মাধ্যমেই উত্তেজনা হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তাঁর সরকার একটি আঞ্চলিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।।