Published : 19 May 2026, 06:22 PM
জুলেখা বেগমের কোমর ও পিঠে দীর্ঘদিনের ব্যথা, অর্থাভাবে ভালো ডাক্তার দেখানোর সাধ্য ছিল না। নওগাঁ বন্ধুসভার বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরে এসে তিনি স্বস্তি পেলেন। তাঁর কথায়, “আমি অসহায় নারী, স্বামী মারা গেছেন, ছেলেরা আমার দিকে তাকায় না। ডাক্তার দেখানোর মতো সামর্থ্য নেই। শুনলাম, এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাই এসেছি। ডাক্তার খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন। নওগাঁ থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকেরা আমাদের ধরে ধরে নিয়ে গেছেন, ওষুধ লিখে দিয়েছেন।” নওগাঁ বন্ধুসভার উদ্যোগে ১৬ মে অসচ্ছল রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।
নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের কসবা গ্রামের নজরুল ইসলাম বাদশার বাড়ির সামনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবির চলে। কসবা ও आसपासের কয়েকটি গ্রামের তিন শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু এই সুযোগটি গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ডিজিটাল ল্যাব ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক এস এম তাহা, বাংলাদেশ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ওসুয়াতুন সাবেরা দীনা এবং নওগাঁ মৌসুমী চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শফিকুল আলম রোগীদের সেবা দেন। চিকিৎসকরা শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেননি, রক্তের গ্রুপ, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও নির্ণয় করেন। সিনিয়র টেকনোলজিস্ট রায়হান, সহকারী টেকনিশিয়ান কাবিল হোসেন ও নার্সিং ইনষ্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন এই কাজে সহায়তা করেন। কসবা গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, “আমার বয়স ৬০ বছর, এত দিন রক্তের গ্রুপ কী, তা জানতাম না। আজ এই ক্যাম্পে জানতে পারলাম আমার রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। ডায়াবেটিসও পরীক্ষা করা হলো।
ডাক্তাররা আমাকে পরামর্শ দিলেন কীভাবে চলতে হবে। এই ক্যাম্প থেকে অনেক উপকার হলো। আল্লাহ এই ছেলেমেয়েদের ভালো করুক।” চিকিৎসাসেবা শেষে নওগাঁ বন্ধুসভার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সানম সাব্বির চিকিৎসক ও প্যাথলজিস্টদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এসময় নওগাঁ বন্ধুসভার সহসভাপতি এলমা খাতুন লোটাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমা আক্তার, অর্থ সম্পাদক নাফিস আরা পপি, কার্যনির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলাম, ফেরদৌসী বেগমসহ অন্যান্য বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক, নওগাঁ বন্ধুসভা।।
ক্যারিয়ারে শীর্ষে পৌঁছাতে এক্সট্রা কারিকুলার অভিজ্ঞতা অপরিহার্য