Published : 08 May 2026, 07:07 PM
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়ী থানায় শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন নুরুল ইসলাম, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘দয়াল’ নামে পরিচিত (৬৫)। তিনি একই উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ভাঙারি ব্যবসায়ী। ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর তিনি সপরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। মামলার এজাহারে জানা যায়, শিশুটির মা একজন চাতাল শ্রমিক এবং বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত, যিনি ভিক্ষা করে সংসার চালান। মেয়েটি বেশিরভাগ সময় তার মামার বাড়িতে থাকত। প্রতিবেশী হওয়ায় নুরুল ইসলামের সেই বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে, সে শিশুটিকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি, নুরুল ইসলাম শিশুটিকে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
এরপর থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। ঘটনাটি আঁচতে পেরে, উভয় পক্ষ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু নুরুল ইসলাম শিশুটির পরিবারকে ভয় দেখায় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শিশুটির মামি অভিযোগ করেছেন, সপ্তাহখানেক আগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান এবং স্থানীয় কয়েকজন বিএনপির নেতা-কর্মীকে নিয়ে নুরুল ইসলাম শিশুটির পরিবারের কাছে আপস করতে যায়। মীমাংসার নামে একটি নাটক সাজিয়ে, নুরুল ইসলাম শিশুটির পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা দেনমোহর এবং দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। একই সাথে, একটি কাগজে শিশুটির স্বাক্ষর নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়, যেখানে বিয়ের কথা বলা হয়েছিল। শিশুটির বাবা জানান, সম্মান বাঁচানোর জন্য এবং কয়েকজনের চাপের মুখে তিনি একসময় নুরুল ইসলামের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন। তিনি নুরুল ইসলামের কঠোর শাস্তি এবং উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, তিনি মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষ বসে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
আপস না হওয়ায়, তিনি মামলা করার পরামর্শ দেন। শিশুটির সাথে নুরুল ইসলামের কথিত বিয়ের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শাকিব। তার সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিব শাহ্ জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক। গতকাল রাতে শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। এছাড়াও, যারা বেআইনিভাবে আপস-মীমাংসার সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।