Published : 19 Jul 2026, 11:12 PM
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগদানের জন্য আবেদন করা চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। কারণ, মৌখিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে তাদের চেহারার মিল না থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চার প্রার্থী অন্যদের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির। মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবি এবং তাদের চেহারার অমিল ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে তারা নিজেরা পরীক্ষা দেননি, বরং অন্য ব্যক্তিরা তাদের হয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, আ. আলিমের মৌখিক পরীক্ষা গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হয়।
মো. আলী হায়দার ও রাসেল রানা লিটনের পরীক্ষা হয় ২৫ জুন, এবং মো. মাসুদ ফকিরের পরীক্ষা হয় ২৮ জুন। চারজনেরই পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ২টা। মৌখিক পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীদের প্রবেশপত্রসহ ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে মন্ত্রণালয় নিয়োগপত্র প্রদান করে। নির্বাচিত প্রার্থীদের ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন অধিশাখা) কাছে যোগদানপত্র জমা দিতে বলা হয়। আজ নির্ধারিত সময়ে ওই চারজন সেখানে উপস্থিত হলে তাদের চেহারার সঙ্গে পরীক্ষার সময় তোলা ছবির অমিল ধরা পড়ে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের চেহারার সঙ্গে রেজিস্ট্রেশনধারীদের চেহারা ভিন্ন হওয়ায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করে লিখিত বক্তব্যও জমা দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়কের শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। উক্ত পদের জন্য ২ হাজার ৭৮৪ জন সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ২৩ হাজার ৭০৯ জন অফিস সহকারী পদে আবেদন জমা পড়েছিল। অফিস সহকারী পদের লিখিত পরীক্ষা ১৯ জুন দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৯ হাজার ৩১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।।