Published : 30 Jul 2026, 03:24 AM
স্থাপত্যের নকশা, মডেলে আলোকচিত্র—এই শিল্পকলাগুলোর মেলবন্ধনে ঢাকার আর্ট গ্যালারিগুলোতে বর্তমানে এক নতুন ধরনের প্রদর্শনী চলছে। এই প্রদর্শনীর দর্শক শুধু স্থাপত্যপ্রেমীরা নন, বরং সাধারণ মানুষও এখানে সমবেত হন। বুধবার লালমাটিয়ার কলাকেন্দ্রে আয়োজিত স্থাপত্যকর্ম বিষয়ক এই বিশেষ প্রদর্শনীতে বহু দর্শক সমাগম করেন। তরুণ স্থপতি নূরী ভূঁইয়ার এই প্রদর্শনীটি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে, কারণ এতে তাঁর স্থাপত্য কাজের পাশাপাশি দুটি ভিডিও চিত্রও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘রূপ থেকে চিন্তায়’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন নূরী ভূঁইয়ার সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন। কলাকেন্দ্রের পরিচালক শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান নূরী ভূঁয়ার পরিচিতি তুলে ধরেন। নূরী ভূঁইয়া যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালি।
তিনি ২০২২ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন। এছাড়াও, তিনি শিল্প, চলচ্চিত্র ও দৃশ্যকলা বিষয়ে মাইনর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমের প্রতিষ্ঠান ‘মেরিনা তাবাশ্যুম আর্কিটেক্টস’ (এমটিএ)-তে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই প্রদর্শনীতে নূরী ভূঁইয়ার দুটি স্থাপত্যকর্মের বিস্তারিত নকশা তুলে ধরা হয়েছে। একটি হলো ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার একটি তিনকোণাকৃতির স্থানের পাঠাগার নকশা, যেখানে জনপরিসর এবং স্থাপনার পারস্পরিক সম্পর্ককে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যটি হলো ফিলাডেলফিয়া ইনস্টিটিউট অব কনটেমপোরারি আর্টের (আসিএ) জন্য একটি নতুন জাদুঘর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা। এই নকশাটি পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমকালীন শিল্পচর্চার এক নিবেদিত স্থান হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যা প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে চায়।
এই স্থাপত্যে নূরী ভূঁইয়া স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমের ২০১৬ সালের আগাখান পুরস্কারপ্রাপ্ত স্থাপনা উত্তরার দক্ষিণখানের বাইতুর রউফ মসজিদের কিছু শৈলী প্রয়োগ করেছেন। এছাড়াও, নূরী ভূঁইয়ার এই প্রদর্শনীতে তাঁর নানী এবং বাইতুর রউফ মসজিদ সম্পর্কিত একটি পারিবারিক ও স্থাপত্যভিত্তিক ভিডিও চিত্র রয়েছে। আরও বেশ কিছু স্থাপত্য সংক্রান্ত আলোকচিত্রও এতে স্থান পেয়েছে। এই প্রদর্শনীটি আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত।।