Published : 29 Jul 2026, 03:28 AM
দুই বছর আগে একটি শুটিংয়ের সময় আলোকচিত্রী নামীম আশরাফের (৩৭) সঙ্গে মেকআপ আর্টিস্ট তরুণীর (২৪) পরিচয় হয়। এই পরিচিতি থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে পরিবার সূত্রে বিয়ের কথাও আলোচনা চলছিল। কিন্তু এই সম্পর্কের পরিণতি হয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। গত ১৪ জুন দুপুরে আদাবরের একটি স্টুডিও থেকে ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এক গভীর রহস্যের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নামীম আশরাফ আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় দুই সপ্তাহ ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে, ওই তরুণীর বড় বোন ন্যায়বিচারের দাবিতে এবার পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নামীম বিয়ের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত নৃশংসতার শিকার হন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ জুন নামীম আদাবরের শেখেরটেকে তাঁর স্টুডিওতে ওই তরুণীকে ডেকে নেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলতে বাধ্য করেন। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত তাঁকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে হত্যা করা হয়। ১৪ জুন লাশ উদ্ধারের পর ওই তরুণীর বড় ভাই আদাবর থানায় নামীমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত করলেও পরিবারের পক্ষ থেকে মনে হয়েছে, পুলিশের তৎপরতা যথেষ্ট ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে পরিবার ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা সুলতানুর রহমান জানান, ১৪ জুন দুপুরে তাঁরা স্টুডিওতে এসে তরুণীকে মৃত অবস্থায় দেখেন এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছিল এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু নিহত তরুণীর বোন পুলিশের নীরবতা এবং ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে আদালতে অভিযোগ তুলেছেন যে, তাঁর বোনকে হত্যার বিচার প্রয়োজন।।