Published : 07 Aug 2026, 03:16 AM
‘এসো, এসো, এসো প্রিয়ে/ মরণলোক হতে নূতন প্রাণ নিয়ে’—বজ্রসেনের এই আহ্বান গানেই যেন ধ্বনিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর উপস্থিতি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁর স্মরণে দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মঞ্চ ছায়ানট কবির গীতিনাট্য পরিবেশন করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করল। ২২ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবন মিলনায়তনে কালজয়ী নাটক ‘শ্যামা’র সুরেলা পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি মন চিরজাগরিত হলো কবিগুরুর প্রতি। ১৮৬১ সালে জন্ম নেওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব দরবারে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন আলোকবর্তিকা এনে দিয়েছিলেন। কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক এবং শিল্পকলা—তাঁর অবদান আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তি। ১৯৪১ সালের ২২ শ্রাবণ তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
তাঁর সৃষ্টি আজও মঞ্চে, সঙ্গীতে এবং মানুষের জীবনবোধে জীবন্ত। রবীন্দ্রনাথের শেষ দিকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্ম ‘শ্যামা’ প্রেম, ন্যায়-অন্যায়, অপরাধবোধ এবং আত্মত্যাগের এক গভীর মানবিক দ্বন্দ্বের চিত্রায়ণ। এই নাটকের কেন্দ্রে রয়েছে রাজদরবারের নর্তকী শ্যামা, যে এক বিদেশি বণিক বজ্রসেনকে ভালোবাসে। মিথ্যা অভিযোগ থেকে তাকে মুক্ত করতে এক নির্দোষ যুবকের আত্মবলিদান ঘটে। এই নৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রেমের জটিলতা নাটকটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। শ্যামা চরিত্রটি কবির গভীর মানবিক উপলব্ধির প্রতিফলন ঘটায়।
নাট্যটির কালজয়ী গানগুলি যেমন—‘মায়াবনবিহারিণী হরিণী’, ‘ন্যায় অন্যায় জানি নে, জানি নে’, ‘আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী করেছ দান’—তা দর্শকদের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় এই গানগুলি এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এই নাটকের চরিত্রে মণীষা সরকার শ্যামা, দীপ্র নিশান্ত বজ্রসেন, সঞ্জয় বণিক উত্তীয়র, কোটাল অর্ণব বড়ুয়া এবং ইনজামাম উল হোসাইন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন। নেপথ্য কথন করেছেন তানিয়া মান্নান এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন এ টি এম জাহাঙ্গীর। সার্বিক সজ্জা ও পরিকল্পনায় ছিলেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে সমকামিতার অভিযোগ, এজিএসের আসন বাতিল ও তদন্তের নির্দেশ