Published : 20 Aug 2026, 09:17 AM
বর্তমানে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়। মনে রাখবেন, এখন থেকে বছরজুড়ে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ ছাড় পেতে পারেন। একজন করদাতার আয়ের উৎস সাতটি ভিন্ন খাতে বিভক্ত থাকে। এই খাতগুলো থেকে আয় হলে তা রিটার্নে সঠিকভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। শুধু আয় দেখানোই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি আয়ের উৎস প্রমাণ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র প্রয়োজন। এই নথিগুলো ছাড়া অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বা আয়-ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এবার জেনে নিন কোন ধরনের আয়ের জন্য ঠিক কী কী প্রমাণপত্র লাগবে। ১. চাকরি থেকে আয়: যদি আপনি বেতনভোগী হন, তবে নিম্নলিখিত নথিগুলো যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন।
কিছু নথি অপরিহার্য, আবার কিছু অতিরিক্ত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বেতনের বিবরণী, পে স্লিপ, এবং উৎস কর কর্তনের সনদ। ২. কৃষি আয়: কৃষিজ উৎপাদন বা বিক্রয়ের প্রমাণ হিসেবে কিছু দলিল আবশ্যক। যেমন—জমির দলিল বা লিজ দলিল, কৃষিপণ্য বিক্রয়ের চালান, কৃষি ব্যয়ের প্রমাণ এবং প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী। ৩. ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়: ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিম্নলিখিত নথিগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে আয়-ব্যয়ের হিসাব, ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার নিবন্ধন (যদি থাকে), কেনাবেচার আলাদা হিসাব, ইনভয়েস ও ভাউচার এবং স্টক রেজিস্টার। ৪. বিনিয়োগ থেকে আয়: এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ থেকে আয় দেখানোর জন্য নিম্নলিখিত প্রমাণগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন—ব্যাংকের মুনাফার সনদ, এফডিআর সনদ, সঞ্চয়পত্রের তথ্য, লভ্যাংশের বিবরণী, শেয়ার বিও হিসাবের বিবরণী এবং মিউচুয়াল ফান্ডের বিস্তারিত নথি। ৫. বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয়: সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয় প্রমাণ করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন।
যেমন—ভাড়া চুক্তিপত্র, ভাড়া গ্রহণের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ, মালিকানার দলিল, পৌরকর/হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ এবং মেরামতের খরচের প্রমাণ (যদি দাবি করা হয়)। ৬. মূলধনি মুনাফা: জমি, ফ্ল্যাট বা শেয়ার বিক্রির মতো সম্পদ বিক্রি থেকে আয় দেখাতে হলে নিম্নলিখিত নথিগুলো অপরিহার্য। যেমন—ক্রয় দলিল, বিক্রয় দলিল, নিবন্ধনের দলিল, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং উন্নয়ন ব্যয়ের প্রমাণ (যদি থাকে)। ৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়: কমিশন, পরামর্শ ফি, লয়্যালটি, সম্মানী বা পুরস্কারের অর্থ—এই ধরনের আয়ের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট সনদ বা দলিল প্রস্তুত রাখা আবশ্যক। সব করদাতার জন্য সাধারণ কিছু প্রয়োজনীয় নথি হলো—ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইল, প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিবরণী, দানের রসিদ এবং জীবনবিমার প্রিমিয়ামের প্রমাণপত্র। নথি কেন জরুরি? শুধু রিটার্ন জমা দিলেই করদাতার দায়িত্ব শেষ হয় না। এই নথিগুলো নির্ধারিত সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কর কর্তৃপক্ষের নিরীক্ষার সময় সহজে উপস্থাপন করা যায়। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।।