Published : 10 Aug 2026, 09:16 AM
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মোট বিক্রির ওপর ন্যূনতম এক শতাংশ কর আরোপের নীতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। আয়কর প্রদানের পরিবর্তে এই টার্নওভার কর সরাসরি মোট লেনদেনের ওপর ধার্য হওয়ায় উদ্যোক্তারা নানা সমস্যায় পড়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এই কর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তার প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. মুনাফা নয়, বিক্রির ওপর করের বোঝা: সাধারণত কর হিসাব করা হয় ব্যবসার প্রকৃত লাভ বা মুনাফার ওপর। কিন্তু টার্নওভার কর মোট বিক্রি বা প্রাপ্তির ওপর ধার্য হয়। এর ফলে যে প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানে চলছে বা কম লাভ করছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, কারণ তারা লাভের নিরিখে নয়, বিক্রির নিরিখে কর দিতে বাধ্য হচ্ছে। ২. করের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: প্রকৃত লাভের হিসাব করলে করের পরিমাণ অনেক কম আসার কথা, অথচ বাধ্যতামূলক টার্নওভার করের কারণে করের বোঝা বহুগুণ বেড়ে যায়।
এটি করদাতাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে। ৩. নগদ প্রবাহে বাধা: ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের সঠিক প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বিক্রির ওপর ভিত্তি করে এই কর পরিশোধ করতে গিয়ে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেন ও মূলধন প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা তাদের কর্মপ্রবাহকে স্তব্ধ করে দেয়। ৪. সৎ ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহ: যারা নিয়মিত সঠিক হিসাব রাখেন এবং স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাদের অনেকেই এই টার্নওভার করের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই ব্যবস্থা অনেক সৎ ব্যবসায়ীকে বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখতে উৎসাহিত করছে এবং সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগের পরিবেশকে সংকুচিত করছে। এই কর ব্যবস্থার প্রভাব ব্যবসায়িক গতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।
যেমন—১. ব্যবসার সামগ্রিক বৃদ্ধি ও গতি হ্রাস পেতে পারে। ২. অতিরিক্ত করের বোঝা বিনিয়োগে অনীহার সৃষ্টি করে। ৩. ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ৪. উদ্যোক্তাদের ওপর মানসিক চাপ এবং অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।।