Published : 24 Jul 2026, 03:13 AM
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এক বিশাল সামরিক ব্যয় সংক্রান্ত আইন পাশ হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলার (১.১৫ ট্রিলিয়ন)। গত বুধবার এই বিলটি অনুমোদিত হয়। এই বিপুল অঙ্কের বিল এবং এতে ইসরায়েলের সঙ্গে উন্নত সামরিক প্রযুক্তির সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিষদে এই বিলটি ২১৬-২১২ ভোটে পাশ হয়। ছয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির পক্ষে এবং সাতজন রিপাবলিকান বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। ইরান-বিরোধী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি মন্তব্য করেছেন যে, ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ)-এর এই সংস্করণটি মার্কিন সামরিক প্রযুক্তিকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সিনেটে এটি পাস হবে না।
এনডিএএ-তে সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে গত বছর এই পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার কোটি ডলার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব এই আইনেরই প্রতিফলন। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের চলমান পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য এই অতিরিক্ত অর্থ অপরিহার্য। এনডিএএ-তে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও মার্কিনদের মধ্যে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। এই বিলের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে সিনেট। যখন হোয়াইট হাউস সামাজিক কর্মসূচির ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে, তখন ডেমোক্র্যাটরা এত বড় সামরিক ব্যয়ের বিরোধিতা করতে পারেন।
গত সপ্তাহে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা এনডিএএ নিয়ে বিতর্ক শুরু করা থেকে বিরত ছিলেন। সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার এই বিলটিকে ইরানের বিরুদ্ধে সরকারের যুদ্ধের জন্য এক ধরনের 'অনুমতিপত্র' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাধারণত এনডিএএ এমন একটি আইন হিসেবে বিবেচিত হয় যা কংগ্রেসে পাস হওয়া প্রায় নিশ্চিত। তবে এবারের আইনে ইউক্রেনের জন্য সহায়তাসহ বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ও রয়েছে। এছাড়াও 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নামে আরেকটি আইন রয়েছে, যার লক্ষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ও কঠোরতা আরোপ করা। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এটি ভোট জালিয়াতি রোধ করতে সাহায্য করবে, যদিও এই দাবিটি সত্য নয়।।
ইরানের সামরিক চাল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন চ্যালেঞ্জ