Published : 14 Aug 2026, 07:16 PM
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং নেতা অ্যালেক্স ইমনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব-২ দল পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাং নেতা ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে আটক করে। বর্তমানে এই মামলায় র্যাব মোট পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
নয়মুল হাসান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের খোলামোড়া এলাকায় বেশ কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী একত্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে র্যাব-২-এর একটি দল শাক্তা ইউনিয়নের কোলচর এলাকা থেকে মো. হৃদয় (২৩), সুজন (২২) এবং সোহেল ওরফে চায়না সোহেলকে (২৬) একটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি, দুটি তরবারি এবং তিনটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে খোলামোড়া এলাকা থেকে রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বিকে (২২) একটি একনলা বন্দুক, পাঁচটি তাজা গুলি এবং একটি সামুরাইসহ আটক করা হয়। রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইমন হত্যাকাণ্ডের সাত নম্বর আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং তাঁর কাছ থেকেও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, দস্যুতা, মাদক এবং চুরিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। র্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে জহিরুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর ও কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় এই ধরনের মোট ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সুজন, সোহেল, হৃদয় এবং রাব্বির নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নয়মুল হাসান মন্তব্য করেন, 'বর্তমানে মোহাম্মদপুরে কোনো গ্যাং সক্রিয় নেই; আমরা তাদের উপর কঠোর দমননীতি প্রয়োগ করেছি। এই ধরনের দমন নিশ্চিত করতে হলে সকলের আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে। আমরা রাতের বেলা এবং অন্যান্য সময়ে মোটরসাইকেল ও পিকআপের মাধ্যমে টহল বাড়িয়েছি। যে সকল স্থানে ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ আমরা সন্তুষ্ট।' ।