Published : 10 Apr 2026, 11:06 AM
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী, মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশ বাতিল করা তাদের পূর্বের অবস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটি আবার চালু হবে। তবে সেই আইনের অধীনে মানবাধিকার কমিশন কার্যত অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। আগের অধ্যাদেশের অধীনে গঠিত কমিশন নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল। গুমের ঘটনা তদন্ত এবং জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের দায় নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিশনের সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ছিল।
কমিশন বাছাই কমিটির গঠনেও নির্বাহী বিভাগের আধিপত্য সীমিত করা হয়েছিল এবং সদস্যদের যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। পূর্বে কমিশনে দুজন সার্বক্ষণিক সদস্য ছিলেন। কিন্তু অধ্যাদেশের মাধ্যমে চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্যকে সার্বক্ষণিক এবং যোগ্য করে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের জন্য বাস্তবসম্মত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, ক্ষতিপূরণ দিতে এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে সহায়ক ছিল। সুতরাং, অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি আবারও একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বিচারক নিয়োগের বিধান অসম্পূর্ণ ছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই মূল ক্ষমতা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চপদস্থ কাউন্সিল প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে উচ্চ আদালতের বিচারকদের একটি তালিকা তৈরি করত, যা নির্বাহী বিভাগ মেনে চলতে বাধ্য থাকত।
এর ফলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিরাও বিচারক হওয়ার সুযোগ পেতেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ধর্না দেওয়ার প্রয়োজন হতো না। আমরা দেখেছি, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৫ সালে নিযুক্ত বিচারকদের বিষয়ে বিএনপির আইনজীবীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এখন অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ায় আবারও আগের পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। আশঙ্কা করা যায়, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেতে পারে। তবে আইনমন্ত্রীর আশার কথা হলো, এই অধিবেশন অথবা পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে ওই দুটি আইন আবারও উপস্থাপন করা হবে এবং অধ্যাদেশের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো অক্ষুণ্ণ রেখে সেগুলোকে আইনে পরিণত করা হবে। তানিম হোসেইন শাওন: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য।।
শিক্ষার মানোন্নয়ন: শুধু অর্থ নয়, ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করতে চাই