Published : 06 Aug 2026, 03:16 AM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে জাতীয় ছাত্রশক্তি এক বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ এবং তাদের পাঁচ দফা দাবি প্রতিষ্ঠা করা। কর্মসূচি পালনের পূর্ব ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে তারা বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ছাত্রদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরেন। তাঁরা স্লোগান দেন, যেমন – ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না’, ‘ছাত্রদলের ছদ্মবেশে ছাত্রলীগের কার্যকলাপ চলছে’, ‘সালাউদ্দিনের জীবনযাত্রা কেমন? ঘুমায় নাকি?’ এবং ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসনের জবাব চাই’। এই প্রতিবাদ চলাকালীন জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে – হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৭ একর এলাকা জুড়ে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা; সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় অবিলম্বে পুনরায় খোলা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, গতকাল ছাত্রদল তাদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন পাশের কবি নজরুল সরকারি কলেজের এবং সদরঘাট এলাকার যুবদলের কিছু কর্মী জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। তিনি বলেন, এমন ঘটনা পূর্বে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এরপর ছাত্রলীগ এবং বর্তমানে ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ছাত্রদল এই ধরনের কার্যকলাপ অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ছাত্রলীগের পরিণতির কথা স্মরণ রাখা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলের’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল। তারা স্পষ্ট বার্তা দিতে চান যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সকলের অধিকার। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ আরও জানান, গতকালের নৃশংস হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনকে সমন্বয় করে তারা ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট যেমন ক্যাম্পাসের ফটক বন্ধ ছিল, তেমনি আজও ৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে তালা ঝুলছে। এই প্রেক্ষাপটে তারা দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ইসমাইল হোসেন তাসিন জানান, ছয়জন প্রতিনিধি দাবি জানাতে অডিটোরিয়ামে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রক্টরিয়াল বডির বাধা সৃষ্টি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গতকাল ছাত্রদলের অছাত্র কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি, জকসুর ভিপি এবং ছাত্র ফ্রন্টের নেতা ইভানসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। প্রশাসনের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।।
বিতর্কের মুখে ভারতী সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের 'রিপাবলিক বাংলা' থেকে বিদায়