Published : 05 Aug 2026, 11:16 PM
শরীয়তপুরের জাজিরা অঞ্চলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মসূচিতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়। বুধবার বিকেলে উপজেলা সদরের মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এই আক্রমণ সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। একই সময়ে বিএনপি ও তার অংশীরা পার্শ্ববর্তী টিওটি মোড় এলাকায় নিজেদের কর্মসূচি পালন করছিল। জামায়াতের নেতাদের দাবি, মিছিল শুরুর পূর্বে কিছু নেতা-কর্মীর দল মডেল মসজিদের সামনে এসে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় এবং এতে তাদের কিছু সদস্য আহত হন। এই পুরো ঘটনাটি বিজয় টিভির জাজিরা উপজেলা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া ক্যামেরাবন্দী করছিলেন। হামলার সময় কয়েকজন আক্রমণকারী তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের আমির মুহা. আব্দুর রব হাসেমী এই প্রসঙ্গে বলেন, কর্মসূচির আয়োজন প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে হয়েছিল এবং বিএনপিও তাদের নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করছিল। তবে গণমিছিল শুরুর আগে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর দল এসে জামায়াতের ওপর হামলা চালায়। তিনি এই ঘটনার জন্য পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলনকে দায়ী করে জানান এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, হামলার শিকার সাংবাদিক জুয়েল মিয়া অভিযোগ করেন যে তিনি কেবল ঘটনার ভিডিও করছিলেন, কিন্তু কয়েকজন হামলাকারী তাঁকে আক্রমণ করে মারধর করে। তিনি এই আক্রমণের বিচার দাবি করেন। তবে জাজিরা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন এবং জামায়াতের কর্মসূচিতে কোনো প্রকার হামলা করেননি।
তাঁর মতে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং কারা হামলা করেছে তা স্পষ্ট হবে। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মেদ জানান, জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
বিতর্কের মুখে ভারতী সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের 'রিপাবলিক বাংলা' থেকে বিদায়