Published : 05 Aug 2026, 03:16 AM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই সংগ্রামী চেতনাকে মূর্ত করে তুলতে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কবিতার মাধ্যমে সৃজনশীল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দেশের কবিরা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। এই অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা পরিষদ কর্তৃক 'শহীদের রক্তে লেখা হয় মুক্তির কবিতা' শীর্ষক কবিতাপাঠ, গভীর আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি মোহন রায়হান। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে/ কত প্রাণ হলো বলিদান' গানটি পরিবেশিত হয়। স্বাগত বক্তব্যে মোহন রায়হান বলেন, আশির দশকে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পটভূমিতেই জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। সেই সময়ে কবিরা কেবল সাহিত্যেই নয়, রাজপথেও প্রতিবাদে সজাগ ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে জনরোষের মুখে নেমেছিলেন।
সেই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল ছাত্র ও শ্রমিকসহ অসংখ্য প্রতিবাদী জনতার রক্তে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণের পথে কবিরা তাঁদের এই সংগ্রামী ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান আলোকপাত করেন যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হলেও একটি সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছিল, কিন্তু সেই সুযোগ ক্রমশ ম্লান হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলার ঘটনা এই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। কবিতা পরিষদকে প্রগতিশীলতার প্রতীক হিসেবে এই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা বেলাল চৌধুরী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন হলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপূরক নয় এমন চুক্তি ও সামরিক জোটে যোগদানের মাধ্যমে বৈষম্য ফিরে আসছে। দুর্নীতি ও উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
এই কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীত। বক্তারা সম্মিলিতভাবে আহ্বান জানান যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জনগণের মধ্যে সাহস ও ঐক্যের বোধ সৃষ্টি করেছে। সেই চেতনাকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের আলোকে একটি উদার ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহসভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহসভাপতি কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জন রাষ্ট্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ উল্লাহ এবং সার্বভৌম আন্দোলনের মুখপাত্র শামীম রেজাও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি কবিতা পাঠ ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সাজানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হৃদিকা, ঈষান, আবির বাঙালি ও রাকিব ফরায়েজি গান পরিবেশন করেন, এবং রাসেল আহমেদ, নিথর মাহবুব, ইউসুফ রেজা, কাব্য রাসেল, তাসকিনা ইয়াসমিন, রফিক হাসানসহ প্রায় অর্ধশত কবি কবিতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি নাহিদ হাসান।।
শেভরন-এক্সনের বিপুল মুনাফা নিয়ে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: তেলের দাম কমানোর দাবি