Published : 04 Aug 2026, 07:16 AM
বিরতির পর এবার নাট্যমঞ্চে ফিরে আসছে আরণ্যক নাট্যদলের বহুল আলোচিত প্রযোজনা ‘কম্পানি’। মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে এই নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এই সৃষ্টি পরিচালক মামুনুর রশীদ কর্তৃক রচিত ও নির্দেশিত। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রথম মঞ্চে আসা এই প্রযোজনাটি ইতিহাসের এক গভীর অধ্যায়কে সামনে আনে। এটি ইউরোপীয় বণিকদের ভারতে আগমন থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক উত্থান, বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিষ্ঠা—এই সমস্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে নির্মিত। নাটকটির মূল উপজীব্য হলো বাণিজ্য নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কীভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিলের পথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বিভাজন, ষড়যন্ত্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় বাংলার শাসনভার নিজেদের দখলে নিয়েছিল, সেই জটিল প্রক্রিয়াটি নাটকের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
রবার্ট ক্লাইভ, মীর জাফর এবং জগৎশেঠের মতো চরিত্রদের ঘিরে তৈরি হওয়া ষড়যন্ত্র, পলাশীর যুদ্ধ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনাপ্রবাহ এই নাটকে চিত্রিত হয়েছে। ‘কম্পানি’ কেবল অতীতের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি নয়; এটি ক্ষমতার স্বরূপ ও তার ধারাবাহিকতা অনুসন্ধানের এক সাহসী প্রয়াস। নাটকটি প্রশ্ন করে—ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটার পরেও কি লুণ্ঠন, সম্পদ পাচার এবং অর্থনৈতিক শোষণের সংস্কৃতি আজও বিদ্যমান? এই জিজ্ঞাসা দিয়েই প্রযোজনাটি সমকালীন রাজনীতি, ক্ষমতার চরিত্র এবং অর্থনৈতিক শোষণকে নতুন আঙ্গিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নাটকের পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যদিও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল, তবুও তারা অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করেছিল। ইতিহাসের সেই অভিজ্ঞতা আজও বিশ্বব্যবস্থায় ভিন্ন রূপে বিদ্যমান। বর্তমান সময়েও বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলো বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করছে। দখলদারি, লুটপাট এবং সম্পদ বিদেশে পাচারের সংস্কৃতি নানা রূপেই অব্যাহত রয়েছে।
এই কারণেই নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা আজও অমলিন।’ কূটনৈতিক চাল এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ক্লাইভের সঙ্গে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার সংঘাতের পরিণতিতে বাংলা স্বাধীনতা হারায়—এই সময়ের উত্থান-পতন ও ক্ষমতার পালাবদল নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর-ঔপনিবেশিক পরিস্থিতি এবং তার মানসভূমিও ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। নাটকটির অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন মামুনুর রশীদ, সাজ্জাদ সাজু, আরিফ হোসেন আপেল, কামরুল হাসান, রুবলী চৌধুরী, সাঈদ সুমন, শাহারান খান, সুজাত শিমুল, জুবায়ের জাহিদ ও মরু ভাস্করসহ আরণ্যক নাট্যদলের একদল শিল্পী। নাটকে বিভিন্ন ভাষা ও গানের ব্যবহারও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।।
স্বাস্থ্যগত কারণে কি মুক্তি পাবেন ইমরান খান? শর্তসাপেক্ষে মুক্তির পথে আলোচনা