Published : 05 Jul 2026, 10:06 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবি) অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতিও দিয়েছে। প্রতিবাদপত্রে অধ্যাপক হক উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহ এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধারণ পাঠকের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযোগটি নতুন নয়; এটি ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের নির্দেশনায় গঠিত একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটিতে তৎকালীন সহ-উপাচার্যের (শিক্ষা) নেতৃত্বে ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ফিন্যান্স বিভাগের একজন অধ্যাপক সদস্য হিসেবে অধ্যাপক হক উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত শেষে কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত বা প্রকাশিত হয়নি এবং চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীকালে তৎকালীন উপাচার্যের সভাপতিত্বে বোর্ড অব গভর্ন্যান্স সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। অধ্যাপক হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ওই অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত। তিনি আরও মনে করেন, ঘটনার বহু বছর পেরিয়ে গেলেও কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটির লেখক তিনজন থাকলেও, পুনরায় উত্থাপিত অভিযোগে শুধুমাত্র তাঁর নামকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটকে বিকৃত করে। তাঁর বক্তব্য ছাড়াই একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পাঠকের সামনে ঘটনার সম্পূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র আসেনি।
অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক মনে করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হলেও সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্বাপর প্রেক্ষাপট, ২০১৮ সালের তদন্ত এবং বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।।
গুগল আর্থের ফ্লাইট সিমুলেটর এখন ওয়েব ব্রাউজারে! পৃথিবীর বুকে উড়ান উপভোগ করুন যেভাবে