Published : 18 Jun 2026, 12:26 AM
একসময় ফুটবলের জগতে বুটের রং ছিল একঘেয়ে কালো। কিন্তু গত পঁচিশ বছরে এই দৃশ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ডগুলো নিজেদের স্বতন্ত্রতা ফুটিয়ে তুলতে রংধনুর সব রঙ নিয়ে মাঠে নামছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে গোলাপি রঙের বুট প্রথম দেখা গেল। বিশ্বকাপে দুই দলের খেলোয়াড়দের পায়ে গোলাপি রঙের বুট—এটি এক নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। প্রশ্ন উঠছে, এত রঙের মাঝে কেন গোলাপি? সাধারণত নাইকি, অ্যাডিডাস এবং পুমার মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো কালো ও সাদা রঙের ডিজাইনে বেশি মনোযোগ দিত।
তাদের লক্ষ্য ছিল উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে ভিড়ের মধ্যে নিজেদের আলাদা করে দেখানো। কিন্তু এখন ট্রেন্ড বদলেছে। ২০২৪ সালে ভোক্তা ট্রেন্ড পূর্বাভাসকারী সংস্থা ডব্লিউজিএসএনের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালে 'ইলেকট্রিক ফুশিয়া'—গোলাপি ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে তৈরি এক অত্যন্ত উজ্জ্বল ও নজরকাড়া রং—আধিপত্য বিস্তার করবে। এই ভবিষ্যদ্বাণী ডিজাইনারদের প্রভাবিত করেছে, এবং ফলস্বরূপ, গোলাপি বুট এখন ফুটবলারদের পায়ে দৃশ্যমান। এই রঙের পেছনে আরও একটি সহজ কারণ রয়েছে। মাঠের সবুজ ঘাসের সঙ্গে গোলাপি রঙের বৈপরীত্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
আপনি টিভি, স্টেডিয়ামে বা ফোনে খেলা দেখুন, সবখানেই এই রংটি চোখে পড়ে। এমনকি স্লো-মোশন ক্লিপ বা স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে পরিবেশে গোলাপি বুটগুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি কেবল একটি কাকতালীয় ঘটনা নয়; ফুটবল এবং ফ্যাশন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, আর বিশ্বকাপে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো নতুন ডিজাইনের আগে ডব্লিউজিএসএনের মতো প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেয়, যাতে নিশ্চিত হয় যে পণ্যটি বাজারে জনপ্রিয় হবে। এই রঙের ব্যবহার কেবল খেলার অংশ নয়, এটি এখন এক নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড।।