Published : 16 Jun 2026, 11:12 AM
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং ব্যবসাবান্ধব একটি সৃজনশীল পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বাজেট প্রণয়নের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। আজ বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় তিনি উল্লেখ করেন, এই বাজেটটি মূলত উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগ আকর্ষণকারী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক। তিনি আরও বলেন, এই বাজেটে যে ছাড় ও রেয়াত প্রদান করা হয়েছে, তা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। এর ফলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে সচল হবে এবং আমরা আশা করি, বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ভঙ্গুর অর্থনীতি, অগোছালো প্রশাসন এবং চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়েই বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই কঠিন সময়ে সরকার কতটা আন্তরিক, তার প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেটে।
মির্জা ফখরুল বাজেটটিকে 'যুগান্তকারী' এবং সম্পূর্ণ 'সৃজনশীল' আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, 'ফ্যামিলি কার্ড'-এর মতো উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লক্ষ পরিবারপ্রধান নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার জন্য ১ লক্ষ ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রামীণ ও কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি কৃষক আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়াও, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং মৎস্য চাষে বিশেষ উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে কৃষি খাতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বাজেটের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশীয় উৎপাদনে বিনিয়োগকারীদের জন্য অভাবনীয় প্রণোদনা ও করসুবিধা দেওয়া হয়েছে। দেশের উৎপাদিত পণ্যকে বিদেশি আমদানির ওপর কর আরোপের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কার্ড এবং হাইটেক পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১.১ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করার ফলে এই দুটি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, কর প্রদানে হয়রানি বন্ধ করা হয়েছে। কাস্টমস পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) হবে এবং করদাতাদের সুবিধার জন্য জনবান্ধব কর প্রশাসন গঠন করা হবে। রপ্তানি সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাস্টমস বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা দেওয়া হবে, যা ব্যবসায়ীদের কর ও রিটার্ন জমা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য দেবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্রাস পাবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে এই বাজেট নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।।